প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের গুণগত মান ও পরিকাঠামো বাড়াতে কিছুদিন আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। কলকাতার প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার মিড-ডে মিল রান্নার ও সরবরাহের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ইসকন (ISKCON)-এর আন্তর্জাতিক মানের মেগা কিচেনের হাতে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী পক্ষ ও একাংশ মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। যেহেতু ইসকন একটি আধ্যাত্মিক ও নিরামিষাশী সংস্থা, তাই প্রশ্ন ওঠে—মিড-ডে মিল থেকে কি এবার ডিম বাদ চলে যাবে? পড়ুয়ারা কি পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে?
আজ, মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে এক মেগা প্রশাসনিক অনুষ্ঠান থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ডিম বিতর্কের সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়ে এক নজিরবিহীন ও দূরদর্শী সমাধানের কথা ঘোষণা করেছেন।

মঞ্চ থেকে মিড-ডে মিলের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন যে, ইসকনকে খাবারের দায়িত্ব দিলে পড়ুয়াদের ডিম কোথা থেকে আসবে? আমরা পরিষ্কার বলেছিলাম, কোনও বাচ্চার পুষ্টিতে ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী আজ স্পষ্ট করে জানান, নবান্ন এমন এক বৈপ্লবিক মডেল তৈরি করেছে যাতে পড়ুয়াদের প্রোটিনের জোগান এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের রুটিরুজি—দুটোই সুরক্ষিত থাকে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ সরকারি রূপরেখাটি বিস্তারিত তুলে ধরেন। ইসকন তাদের স্বয়ংক্রিয় ও হাইজেনিক কিচেন থেকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ, পুষ্টিকর ও উন্নতমানের নিরামিষ খাবার (যার মধ্যে ডাল, সবজি, পনির ও সয়াবিন থাকবে) রান্না করে স্কুলগুলোতে সময়মতো পৌঁছে দেবে। যে সমস্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা আগে মিড-ডে মিল রাঁধতেন, তাদের কাজ কিন্তু চলে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতার সেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মাধ্যমেই সপ্তাহে নির্ধারিত দিনগুলিতে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ডিম সেদ্ধ করে স্কুলে স্কুলে পড়ুয়াদের পাতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।এর ফলে একদিকে যেমন শিশুরা আন্তর্জাতিক মানের পুষ্টিকর ও জীবাণুমুক্ত খাবার পাচ্ছে, অন্যদিকে সপ্তাহে দু’দিন ডিমের প্রোটিনও বজায় থাকছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই সমন্বয়ের ফলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কর্মসংস্থানও অটুট রইল, যা এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক সমাধান।

শুধু ডিমের সুরাহা করাই নয়, স্কুলশিক্ষায় পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার মিড-ডে মিলের আর্থিক বরাদ্দেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিগত জমানার নামমাত্র বরাদ্দ বাড়িয়ে বর্তমান সরকার প্রতি পড়ুয়াপিছু মিড-ডে মিলের খরচ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১০ টাকা করে দিয়েছে। কলকাতার পর খুব দ্রুত সমগ্র হাওড়া জেলার স্কুলগুলিতেও ইসকনের এই মিড-ডে মিল পরিষেবা চালু করা হবে বলে আজ বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিম বিতর্ককে হাতিয়ার করে যারা সরকারকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিল, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের যুক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী আজ তাদের মুখে কার্যত ঝামা ঘষে দিলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও ওয়াকিবহাল মহল।