প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বভারতীয় রাজনীতিতে আবার বড়সড় তোলপাড়! কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) হাইভোল্টেজ বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ, মঙ্গলবার বিকেলে সশরীরে দেশের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তড়িঘড়ি দিল্লি সফর ঘিরে এখন সরগরম জাতীয় রাজনীতি। আগামীকাল, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জাতীয় স্তরের বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’ (INDIA)-র এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা বৈঠক। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে আজ সকালেই দিল্লিতে বসেছিল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটির (CWC) বৈঠক, যেখানে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর বিষয়ে কংগ্রেস তীব্র অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগে বিরোধীদের প্রধান নিশানা এখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধের খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই বিরোধীদের হাতে এসেছে বড় হাতিয়ার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বে অভিযোগ তুলেছেন যে, এই SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলায় প্রায় ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম একতরফাভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই “ভোট চুরির” অভিযোগকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতেই এবার সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সুর মেলাতে তড়িঘড়ি দিল্লি গিয়েছেন মমতা-অভিষেক। সম্প্রতি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই জোটবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়।
মমতা-অভিষেকের এই দিল্লি সফর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র কটাক্ষ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বলেন, “অতীতেও অনেকে দিল্লি গিয়েছেন। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই গণতান্ত্রিক রায়কে অস্বীকার করতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অলীক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং সিপিএমের সঙ্গে নতুন চক্রান্ত করতেই উনি দিল্লি গিয়েছেন”।
বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি জোটের বৈঠক থেকে বিরোধীরা বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে বিরোধীরা যৌথভাবে সংসদে অপসারণের নোটিস (Removal Motion) আনার ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে আলোচনা করবে। ভোটার তালিকায় হওয়া তথাকথিত কারচুপির প্রতিবাদে দেশব্যাপী সম্মিলিত আন্দোলনের দিনক্ষণ ও রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। তবে এই মেগা বৈঠকের আগে একটি ভিন্ন সমীকরণও নজরে থাকছে রাজনৈতিক মহলের, কারণ আপ (AAP) ও ডিএমকে (DMK)-র মতো কিছু দল এই বৈঠক থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক ঝড় আগামী দিনে কেন্দ্র বনাম বিরোধী জোটের সংঘাতকে এক নজিরবিহীন মাত্রায় নিয়ে যেতে চলেছে।