প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুজোর ঠিক মুখে আজ রাজ্য রাজনীতির নজর কেড়েছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মেগা উপনির্বাচন। আর এই উপভোটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন কোনও বড় ভিআইপি কনভয় বা সাইরেন বাজানো গাড়ি নয়, বরং সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের মতো একটি টোটোয় (ই-রিকশ) চড়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। গত মে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একই সাথে কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুটির বেশি আসনের বিধায়ক পদে থাকতে পারেন না। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই শূন্য আসনেই আজ এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রশাসনিক কাজের তাগিদে বর্তমানে তিনি কলকাতায় নবান্ন সামলালেও, নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। আজ নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে কলকাতা থেকে সরাসরি নিজের চেনা জমিতে পৌঁছান তিনি। নন্দীগ্রামে নেমে তিনি কোনও আড়ম্বর ছাড়াই স্থানীয় একটি সাধারণ টোটোয় সওয়ার হন এবং বুথের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে টোটোয় চেপে আসতে দেখে এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়। এরপর তিনি নন্দনায়ক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পোলিং বুথে প্রবেশ করেন এবং লাইনে দাঁড়িয়ে নিয়ম মেনে নিজের ভোট দান সম্পন্ন করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে যাওয়া এই হাইপ্রোফাইল আসনের উপভোট যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে মেটে, তার জন্য নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—রাজ্যের এই দুই উপনির্বাচনের জন্য মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল নন্দীগ্রামের সুরক্ষাতেই রয়েছে ৩৭ কোম্পানি আধাসেনা এবং বিপুল সংখ্যক রাজ্য পুলিশ। আজ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) এই উপনির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এবং ফলাফল প্রকাশ করা হবে।