প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রেজিনগরে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের গ্রেফতারি নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে আবেগঘন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, মঙ্গলবার সকালে নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড বুথে সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোট দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের নয়, বরং এটি তাঁর জীবনের এক চিরস্থায়ী বন্ধন।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় আসন থেকেই জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন, যার ফলেই আজ এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে যে তাঁর বিন্দুমাত্র দূরত্ব তৈরি হয়নি, আজ সেটাই আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আবাসের অবস্থান স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলালেও, নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে আমার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমি মৃত্যুর দিন পর্যন্ত এই নন্দীগ্রামেরই ভোটার হয়ে থাকব।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাঁর নাম এই এলাকার ভোটার তালিকা (Electoral Rolls) থেকেই নথিভুক্ত থাকবে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মতোই বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে লাইনে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে ভোট দিয়েছি। কোনো অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা বা প্রিভিলেজ আমি নিইনি।”
নন্দীগ্রামে নিজের যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে তাঁর যে সাধারণ ভাড়া বাড়িটি রয়েছে, তা এখনও একই রকম আছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেটিকে কোনো “উঁচু অট্টালিকা” বা বড় বিল্ডিংয়ে রূপান্তর করা হয়নি, সেটি আজও তাঁর সাধারণ কার্যালয় হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের স্মৃতি এবং ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনের ইতিহাসকে স্মরণ করে শুভেন্দু আশ্বাস দেন, অতীতে তিনি নন্দীগ্রামের জন্য যেভাবে কাজ করেছেন, আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই এলাকার উন্নয়নে তার চেয়েও অনেক বেশি কাজ তিনি করবেন।
আজ দুপুর পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোট পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বুথে বিরোধী দলগুলির এজেন্ট না থাকা নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার এই কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের মার্জিন অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।