প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের উৎপাদন ও বিমান চলাচল (Aviation) ক্ষেত্র নিয়ে এবার এক অভাবনীয় এবং বৈশ্বিক রূপরেখা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ, ৭ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার), সরকার প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার ঐতিহাসিক দিনে নতুন দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামের মেগা মঞ্চ থেকে এমন এক গ্যারান্টি দিলেন তিনি, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের দাপটকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আজকের ভাষণে ভারতের বিমান উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী লক্ষ্যের কথা দেশবাসীকে জানান প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি দুবাইয়ের ‘ফ্লাইদুবাই’ (flydubai) বিমানের এক ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার (Captain Smit Machchhar) যেভাবে তাঁর সহ-পাইলটের বিমান ক্র্যাশ করানোর আত্মঘাতী চেষ্টা রুখে দিয়েছেন, সেই বীরত্বের ঘটনা উল্লেখ করেন মোদী। তিনি বলেন, আজ বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পাইলটদের প্রতিভা ও সাহসের জয়জয়কার চলছে। কিন্তু এর পরেই সবাইকে চমকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক বিরাট গ্যারান্টি দিয়ে বলেন, “এমন এক দিন আসতে চলেছে, যখন বিশ্ব শুধু ভারতের পাইলটদের নিয়ে নয়, বরং ভারতে তৈরি হওয়া যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমান (Made-in-India Aircraft) নিয়েও কথা বলবে।” বোয়িং বা এয়ারবাসের মতো বৈশ্বিক সংস্থাকে টেক্কা দিতে ভারত যে এবার নিজের মাটিতেই বড় যাত্রীবাহী বিমান তৈরির পথে হাঁটছে, তা এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার।

২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্যে ভারতকে একটি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব (Global Manufacturing Hub) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই যে তাঁর প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য, তা আজ পুনর্ব্যক্ত করেন মোদী। তিনি জানান, বিগত এক দশকে দেশের পাবলিক ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বা মূলধনী ব্যয় ২ লক্ষ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকার ওপরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন আজ ১৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। ডিফেন্স এবং সেমিকন্ডাক্টরের পর এবার বিমান উৎপাদন ক্ষেত্রেও দেশ আত্মনির্ভরতার নতুন ইতিহাস লিখবে।

বিশ্ববাজারের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রেখেও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদের সংশয়কে উড়িয়ে দিয়ে মোদী আজ হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ভারতের সামনে হয়তো বহু চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে সেই সমস্যাগুলির জন্য ১৪০ কোটি সমাধানও প্রস্তুত রয়েছে।” আর এই শক্তির ওপর ভর করেই খুব দ্রুত ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির একটিতে উন্নীত করা হবে বলে আজ দৃঢ়তার সঙ্গে জানান প্রধানমন্ত্রী।