প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, কিন্তু তাই বলে ক্ষমতার জন্য এতবার ভোলবদল? উপনির্বাচনের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা আসলে কোনও হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং তাঁর ‘ডিগবাজির রাজনীতির করুণ পরিণতি’। এমনটাই মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আজ ক্যামেরার সামনে কান্নাকাটি করে তিনি বিদায় নেওয়ার কথা বললেও, মুর্শিদাবাদের রাজনীতির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য কথা। সাধারণ ভোটারদের একাংশের মতে, ক্ষমতার জন্য বারবার আদর্শ বিসর্জন দেওয়ার যে ইতিহাস হুমায়ুন কবীর তৈরি করেছেন, আজ রাজনৈতিক গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার ভয়েই তিনি এই অবসরের তাস খেলছেন।
মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক কেরিয়ারের দিকে তাকালে শুধুই দলবদলের খতিয়ান চোখে পড়ে। একসময় কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে উত্থান হলেও, পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস, তারপর আবার বিজেপির হাত ধরা এবং সবশেষে সেখান থেকে বেরিয়ে সমাজবাদী পার্টি হয়ে নিজের পকেট দল ‘এজেইউপি’ (AJUP) গঠন—ক্ষমতার লোভে এই লাগাতার ডিগবাজিকে ভালো চোখে নেননি জেলার মানুষ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এতদিন পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় নিজের একটা নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক দেখিয়ে যেভাবে বিভিন্ন বড় দলের ওপর হুমায়ুন কবীর চাপের রাজনীতি বা ব্ল্যাকমেইলিং করে এসেছেন, রাজ্যের বর্তমান নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিন্যাসের সামনে সেই ম্যাজিক এবার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল রেজিনগর উপনির্বাচনে কড়া প্রশাসনিক পাহারায় ভোট হতেই হুমায়ুন কবীর বুঝে গিয়েছেন যে তাঁর পায়ের তলার মাটি আর অবশিষ্ট নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ছেলেকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করার যে পরিবারতান্ত্রিক জেদ তিনি ধরেছিলেন, তা এই উপনির্বাচনেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। আর সেই হারের গ্লানি এড়াতেই ভোট গণনার আগেই অবসরের আবেগঘন নাটক তৈরি করে তিনি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সম্মানজনক বিদায় নেওয়ার রাস্তা খুঁজছেন বলে তীব্র কটাক্ষ করছে ওয়াকিবহাল মহল।