প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অবাস্তব অভিযোগ তুলে আজ বুধবার দিল্লির রাজপথে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি করল কংগ্রেস তথা বিরোধী INDIA জোটের সাংসদেরা। যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করে এগোনোর নামে রাজধানীর উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়যুক্ত উইন্ডসর সার্কেলে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রার নেতৃত্বাধীন বিরোধী সাংসদেরা। তবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে, রাজপথের মাঝখানেই শুরু হয় চরম নাটকীয়তা—যার জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় দিল্লির ট্রাফিক ব্যবস্থা, চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইন মেনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার জন্য মাত্র ৩০ জন সাংসদকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত আইনকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রায় ২০০-র বেশি সাংসদ ও কর্মী ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার জেদ ধরেন। জনজীবন সচল রাখতে এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু নাটকের এখানেই শেষ নয়! রাহুল গান্ধীকে যখন পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তোলে, তখন উত্তেজিত কংগ্রেস কর্মীরা পুলিশের সেই বাসের চাকা পর্যন্ত ফুটো (Puncture) করে দেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খোদ দেশের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সরকারি সম্পত্তির এই ধরণের ক্ষয়ক্ষতি ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখানোর মানসিকতা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ধিক্কার শুরু হয়েছে।
মিছিল আটকে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উইন্ডসর সার্কেলের ব্যস্ত পিচ-রাস্তার মাঝখানে হাতে সংবিধানের কপি নিয়ে শুয়ে পড়েন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দিল্লির কর্মব্যস্ত রাজপথ এভাবে আটকে রেখে তিনি পুলিশের সাথে চরম ধস্তাধস্তিতে জড়ান। কংগ্রেস নেত্রীর এই ধরণের হাই-ভোল্টেজ আচরণকে সস্তা প্রচারের রাজনীতি বলে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের মতেই, ভোটার তালিকার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও আইনি বিষয়টিকে সাংবিধানিক উপায়ে বা আদালতের দরজায় মোকাবিলা না করে, দিল্লির বুকে এই ধরণের হাই-ড্রামা তৈরি করা আসলে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের চরম ভোগান্তি তৈরি করে স্রেফ ক্যামেরার সামনে লাইমলাইট পেতেই এই “রাস্তায় শোয়ার নাটক” মঞ্চস্থ করা হয়েছে বলে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে দেশের রাজধানীকে অচল করার এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতি হাত শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।