প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় হওয়া প্রথম মেগা অগ্নিপরীক্ষায় কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল বিরোধী শিবির। গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া পূর্ব মেদিনীপুরের হেভিওয়েট কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গণনা চলছে আজ, শুক্রবার সকাল থেকে। আর গণনাকেন্দ্র থেকে নির্বাচন কমিশনের (ECI) প্রাথমিক অফিশিয়াল ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের স্পষ্ট দাবি—বিগত আমলের দুর্নীতি ও তোষণের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে আমজনতা বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুশাসনের পক্ষেই সিলমোহর দিচ্ছে। প্রথম দফার ইভিএম গণনা আসতেই দুই কেন্দ্রেই অলঙ্ঘনীয় ব্যবধান তৈরি করে জয়ের দৌড়ে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছেন শাসকদলের প্রার্থীরা, যা বিরোধীদের সাংগঠনিক দেউলিয়াপনাকেই জনসমক্ষে বেআব্রু করে দিয়েছে।
মুখ্যকর্মী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনী ক্ষেত্রে সকাল থেকেই একচ্ছত্র দাপট দেখাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম গণনার শুরু থেকেই তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হেভিওয়েট আসনে বিরোধীরা যতই চক্রান্তের জাল বুনুক না কেন, তা গণনার প্রথম প্রহরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। ভোট কুশলীদের দাবি, বাম সমর্থিত সিপিআই, আইএসএফ কিংবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক তৃণমূল—কারোর দম্ভই ইভিএম-এর বাক্সে ধোপে টেকেনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেস প্রার্থীও লিডের মার্জিনের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেননি, যা প্রমাণ করে নন্দীগ্রামের মানুষ ঘরের ছেলের উন্নয়নের রাজনীতির ওপরেই আস্থা রেখেছেন।
সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমকটি তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদের মুসলিম অধ্যুষিত আসন রেজিনগরে। সেখানেও প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে সমস্ত অপপ্রচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। ভারতের নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ট্রেন্ড অনুযায়ী, প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে তিনি ১১,০৩৩ ভোটের রেকর্ড মার্জিনে লিড নিচ্ছেন।সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করা দলগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের টিপ্পনী—দীর্ঘদিনের তোষণ ও মেরুকরণের রাজনীতিকে রেজিনগরের মানুষ আজ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন। এখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-এর গোলাম নবী আজাদ। নিজেদের জমি হারিয়ে কংগ্রেস, সিপিএম এবং ‘মমতা তৃণমূল’ প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির হাল এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে তাদের জামানত বাঁচানোই এখন বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে!
গণনাকেন্দ্রের বাইরে ট্রেন্ড দেখেই ইতিমধ্যেই বিরোধীদের একাংশ বরাবরের মতো “ভোট লুট” ও “বুথ দখল”-এর চেনা কাসুন্দি গাইতে শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের স্পষ্ট অভিমত, যখনই বিরোধীরা শোচনীয় হারের মুখে পড়ে, তখনই নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর দোষ চাপানো তাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে বিরোধীদের তোলা সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই রায় স্রেফ পাঁচ মাসের সুশাসনের পক্ষেই আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত সিলমোহর।