প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিগত তৃণমূল জমানায় পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে দিনের পর দিন ছিনিমিনি খেলা হয়েছে এবং পুলিশ রিক্রুটমেন্টকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল, আজ মহালয়ার মেগা মঞ্চ থেকে তার ময়নাতদন্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার ব্রিগেডের বিশাল প্রশাসনিক সভা থেকে পূর্বতন সরকারের ওবিসি (OBC) সংরক্ষণের চরম কেলেঙ্কারি ও জটকে প্রকাশ্য জনসভায় ধুয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী। একই সঙ্গে যোগ্য যুবকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে পুজো শুরুর মুখেই রাজ্য পুলিশে ১১,০০০ নতুন কনস্টেবল নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও মেগা ঘোষণা করেছেন তিনি।

আজকের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বিগত সরকারের নিয়োগ দুর্নীতির কড়া সমালোচনা করেন। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় তোপ দেগে বলেন, “বিগত সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জট পাকিয়ে রাখা হয়েছিল। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় না আসলে এই নিয়োগ কোনোদিন হতোই না এবং এই জটও কাটত না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এই জট ছাড়াতে বিধানসভায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আইন সংশোধন করেছি এবং রাজ্য সরকারের পুরনো সমস্ত আইনি ভুলভ্রান্তি দূর করেছি। তারই ফলশ্রুতিতে আজ পুজো শুরুর আগেই রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এই মেগা নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করতে পেরেছে।”

বিগত জমানার চরম প্রশাসনিক অপদার্থতার দিকে আঙুল তুলে শুভেন্দু অধিকারী আজ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বিগত জমানায় রাজ্যে পুলিশে প্রকৃত নিয়োগ কোনোদিন হতোই না। গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও ঠুনকো ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’-নির্ভর করে রেখে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে আসল পুলিশ বাহিনী কোনো উপযুক্ত পেশাদার সহায়তা পাচ্ছিল না।” পুলিশমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে রাজ্য চালানোর দিন এবার শেষ। আগামী শুক্রবার এই ১১,০০০ নবনিযুক্ত কনস্টেবলদের হাতে তিনি নিজে সরকারি নিয়োগপত্র তুলে দেবেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলার যানবাহন পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ১৫০০ নতুন পেশাদার চালক নিয়োগ করা হয়েছে বলেও আজ রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।