প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজধানী দিল্লিতে গণপরিবহন স্তব্ধ করে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে সরাসরি কাঠগড়ায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করার অভিযোগে আজ সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা। বিষয়টির চরম গুরুত্ব বিবেচনা করে, আগামীকাল রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০:৩০ টায়, ছুটির দিনেও বিশেষ বেঞ্চ বসিয়ে এই মেগা মামলার জরুরি শুনানির দিন ধার্য করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ আগামীকাল এই স্পর্শকাতর মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন। বিশিষ্ট আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা এই পিটিশনে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার তিন শীর্ষ কর্মকর্তা—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন (IAS), দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার (IPS) এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-র চেয়ারপার্সন ডি থারা (IAS)-কে বিবাদী (Contemnor) করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬), প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছিল যে, আন্দোলনের অজুহাতে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ বা ট্রেনের সূচি পুরোপুরি বাতিল করা যাবে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত স্পষ্ট ভাষায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল, “একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করবেন না (Can’t use hammer to kill a fly)”। সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে সলিসিটর জেনারেলের দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে আদালত প্রশাসনকে পুরোপুরি পরিষেবা ‘বন্ধ’ করার বদলে আনুপাতিক হারে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
পিটিশনে সলিসিটর জেনারেলের আশ্বাস এবং সুপ্রিম কোর্টের লিখিত নির্দেশকে সরাসরি লঙ্ঘন করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পিটিশনার শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী তথ্যপ্রমাণসহ জানান যে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও DMRC ও দিল্লি পুলিশ রাজধানীর ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের গেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ৯ই অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ই অক্টোবর সন্ধ্যা6টা পর্যন্ত ট্রেনের ব্যাপক শিডিউল বাতিল করা হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য আগাম কোনো স্পষ্ট ট্রাফিক বা রুট নির্দেশিকাও প্রচার করা হয়নি।
রবিবার সাধারণ ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এই ট্রানজিট শাটডাউনের গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আগামীকালই বিশেষ শুনানি করতে চলেছে। এর পাশাপাশি, শনিবার দিল্লির বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় আন্দোলনকারী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের গণ-আটক করার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি অত্যন্ত জরুরি হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) পিটিশনেরও শুনানি হবে আগামীকাল এই বিশেষ বেঞ্চেই। দেশজুড়ে চলা এই তীব্র আন্দোলনের আবহে দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে কী কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের ওয়াকিবহাল মহল।