প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ক্ষোভ ও চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মন। কলকাতা হাইকোর্টের কড়া ডেডলাইন এড়িয়ে গ্রেফতারি এড়াতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই দুঁদে আমলা। কিন্তু আজ, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) তাঁর করা আবেদন শোনা তো দূর, উল্টে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্তের আঁতাত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পঞ্চোলীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি উঠলে প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবীকে তীব্র ভর্ৎসনা করে আদালত জানায়, “গোটা বিচারব্যবস্থাকে এক একজন ব্যক্তি উপহাসে পরিণত করেছেন।” দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে অভিযুক্তের পলাতক থাকার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।
শুনানি চলাকালীন রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “পুলিশ কী করছে? আপনারাও কি অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন? আপনারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে গ্রেফতার করছেন না।” আদালত স্পষ্ট ভাষায় রাজ্য প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশকে অবিলম্বে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রভাবশালী যোগসূত্র বা অনৈতিক প্রশ্রয় যে সর্বোচ্চ আদালত বরদাস্ত করবে না, তা এদিনের কড়া মনোভাব থেকেই পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে।
এদিনের শুনানিতে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় আসে যখন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের তালিকায় আসার গতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি অরবিন্দ কুমার। ক্ষুব্ধ বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন: “সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে আমি প্রথমবার দেখলাম যে ৬ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশ দিল, আর ৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে মামলা রুজু হয়ে গেল! আর আজ (১৩ অক্টোবর) মামলা শুনানির জন্যও চলে এলো! এর রহস্য কী? কত মানুষের মামলা মাসের পর মাস ফাইলে পড়ে আছে!” আইনজীবী মহলেও এই বিষয়টিকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগের শুনানিতে যে সমস্ত বিচারপতি যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে অন্য বেঞ্চে কোন প্রক্রিয়ায় এই মামলাটি পাঠানো হলো, তা নিয়ে তীব্র রহস্য দানা বেঁধেছে।
গত ৬ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ পলাতক বিডিও-কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় তাঁর সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি বেতন বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আইনি সময়সীমা অমান্য করে সুপ্রিম কোর্টের ঢাল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন প্রশান্ত। আজ সর্বোচ্চ আদালত মামলা খারিজ করে দেওয়ায় তাঁর গ্রেফতারি এড়ানোর সমস্ত আইনি পথ বন্ধ হয়ে গেল। এখন সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তার পর পলাতক প্রশান্ত বর্মনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে এবং তাঁকে খাঁচায় পুরতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।