প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শারদীয় উৎসবের চতুর্থীর পুণ্যলগ্নে বাংলার শিল্পায়নের ইতিহাসে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। আজ, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পনগরী হলদিয়ায় এসে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা করলেন। তাঁর সাফ বার্তা—”বাংলাকে ভাতানির্ভরতা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর বা স্বনির্ভর হতে হবে।” আজ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (HPL)-এর সহযোগী সংস্থা অ্যাডপ্লাস পলিমারসের অধীনে তৈরি ৬,০০০ কোটি টাকার দেশের বৃহত্তম সমন্বিত ফেনল ও অ্যাসিটোন মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ফিতে কেটে এবং পুজো করে শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মেগা প্রকল্পের ফলে সরাসরি ৬০০ জন এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১,০০০ জনের নতুন কর্মসংস্থানের পথ খুলে গেল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পূর্বতন সরকারগুলির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনকালে উগ্র ও মিলিট্যান্ট ট্রেড ইউনিয়নিজমের কারণে বাংলা থেকে ৫০,০০০-এর বেশি শিল্প পালিয়ে গিয়েছিল। আর বিগত তৃণমূল জমানার ফ্লড ল্যান্ড পলিসি (ত্রুটিপূর্ণ জমি নীতি) এবং সিন্ডিকেট রাজের কারণে নতুন কোনো বড় শিল্প রাজ্যে পা রাখেনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “একসময় যে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস দেশকে স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়েছিল, ভুল নীতির কারণে পরবর্তীকালে আমাদের রাজ্য কেবল ‘ভাতানির্ভর’ (সরকারি খয়রাতি ও ভাতার ওপর নির্ভরশীল) হয়ে পড়েছিল। আমরা এই খয়রাতির রাজনীতি বন্ধ করে নতুন নতুন মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে বাংলার যুবসমাজকে আত্মনির্ভর করতে চাই। গুজরাত যদি শিল্পে প্রথম সারিতে যেতে পারে, তবে পর্যাপ্ত ভৌগোলিক পরিকাঠামো ও বন্দর থাকা সত্ত্বেও বাংলা কেন পারবে না?”

শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে বড় উপহারটি আজ হলদিয়ার মঞ্চ থেকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, চলতি বছর দীপাবলির (Diwali) আগেই রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নতুন এবং স্বচ্ছ শিল্পনীতি (New Industrial Policy) নিয়ে আসতে চলেছে। এই নতুন নীতিতে কী কী থাকবে? শিল্পের জন্য ল্যান্ড ব্যাংক এবং অতি সহজে স্বচ্ছ উপায়ে জমি বরাদ্দের নিয়ম।বিদ্যুৎ শুল্কে বড়সড় ভর্তুকি (Power Tariff Subsidies) এবং আকর্ষণীয় সরকারি ইনসেনটিভ। লাইসেন্স রাজ এবং লাল ফিতের ফাঁশ থেকে মুক্তি দিতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্লিয়ারেন্স।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিপূর্বেই হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের (HDA) মাধ্যমে পেপসিকো (PepsiCo)-র মেগা প্ল্যান্টের জন্য ৯৮ একর জমি এবং একটি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থাকে ৫০ একর জমি সফলভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বড় ঘোষণা করে তিনি বলেন, দুর্গাপুজো মিটলেই রাজ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries)-এর একটি বিরাট প্রকল্পের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে তিনি স্বয়ং অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপের (TCG) চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জিকে রাজ্যে একটি অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার খোলারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেন যে, আগামী জুন ২০২৭-এর মধ্যে হলদিয়ায় একটি ৫০ বেডের আধুনিক সরকারি ট্রমা কেয়ার সেন্টার এবং বার্ন ইউনিট গড়ে তোলা হবে। আজকের এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনের পর হলদিয়া যে কেবল একটি বন্দর শহর নয়, বরং পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ ‘পেট্রোকেমিক্যাল পাওয়ারহাউস’ হয়ে ওঠার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।