প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উপনির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড়সড় তোলপাড়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (DTC)-এর অন্দরে লাগল বড় ধাক্কা। দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্থাৎ রাজ্য মহিলা সভানেত্রীর পদ থেকে আকস্মিক ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে তিনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রের কাছে নিজের লিখিত ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। পাশাপাশি, ঋতব্রতপন্থী বিধায়কদের নিজস্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও তিনি এই বার্তা বিস্তারিতভাবে শেয়ার করেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।

হঠাৎ এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিন মূলত শারীরিক অসুস্থতা এবং কিছু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। ইস্তফাপত্রে তিনি জানিয়েছেন, নতুন করে এই দলের নারী সংগঠনের কাজ জোরদারে যে পরিমাণ ছোটাছুটি ও সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে সম্ভব হচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই ইস্তফা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ও বিধানসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় যে ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, সেই তালিকায় সাবিনা ইয়াসমিনের নামও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই তিনি ঋত-শিবির থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন।

পদত্যাগের পর মালদায় ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণেই এত বড় পদের দায়িত্ব সামলানো কঠিন হচ্ছিল। আমি পদ ছাড়লেও দল ছাড়ছি না, সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব।” অন্যদিকে, মালতিপুরের বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী এই প্রসঙ্গে জানান, সাবিনা ইয়াসমিন অত্যন্ত অভিজ্ঞ নেত্রী, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তবে দেবীপক্ষের আবহে তাঁর এই পদক্ষেপ মালদা তথা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।