প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ও ইসলামপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ কি রাতারাতি বদলে যেতে চলেছে? ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত মিলতেই কি এবার ফাঁসে পড়তে চলেছেন প্রভাবশালী বিধায়ক হামিদুল রহমান? আজ, বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের এক জনসভা থেকে নাম না করে যেভাবে হুঙ্কার ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী, তাতে জেলাজুড়ে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যেভাবে প্রভাবশালী নেতা ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হয়েছেন, ঠিক সেই পথেই এবার জেলার হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
আজকের সভা থেকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এর পরের মিটিং আমি চোপড়া ও ইসলামপুরে করব।” রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, চোপড়া এবং ইসলামপুর মূলত যে নেতাদের গড় বলে পরিচিত, তাঁদের ঘরের মাঠে ঢুকেই এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে চলেছে প্রশাসন।
প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এলাকায় কারুর কোনো দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। জনসভা থেকে সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, “গুন্ডা, মাফিয়া এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে যত কেস আছে, সব রিওপেন করবেন।” শুধু তাই নয়, অতীতে জমি দখল ও বালি চুরির মতো যে সমস্ত মারাত্মক অভিযোগ ধামাচাপা পড়েছিল, সেগুলির দিকে ইঙ্গিত করে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—”যত জমি লুঠ করেছে, সব জমি উদ্ধার করবেন।”
উত্তর দিনাজপুরের বালিখাদান এবং জমি মাফিয়াদের দাপট নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে আজ প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেন:
“দেখতে চাই, কত বড় মস্তান এই জেলাতে আছে! কত বড় বালি চোর, জমি মাফিয়া এই জেলায় আছে!” যেভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ প্রশাসন বড়সড় কোনো অভিযানে নামতে চলেছে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমক ছিল গ্রেফতারি সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি। গতকালই যেভাবে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইন্দ্রনীলকে পুলিশি জালে বন্দি হতে হয়েছে, ঠিক সেই প্রসঙ্গ টেনেই আজ নাম না করে বার্তা দেওয়া হয়। স্পষ্ট জানানো হয়েছে—যেভাবে ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হয়েছেন, ঠিক সেভাবেই গুন্ডাগিরি ও জমি লুঠের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হবে। আইন নিজের পথেই চলবে এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক রং দেখা হবে না। ঋতব্রত-সঙ্গ ছাড়ার গুঞ্জনের মাঝেই হামিদুলের বিরুদ্ধে কি তবে সত্যিই পুরনো ফাইল খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল? রায়গঞ্জের এই বিস্ফোরক সভার পর চোপড়া ও ইসলামপুরের রাজনৈতিক জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।