প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে গিয়ে নিজের দলেরই একদল বিক্ষুব্ধ কর্মীর হাতে আক্রান্ত হলেন খোদ বিজেপি বিধায়ক! সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম-এর ওপর এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিধায়ককে প্রথমে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে মেদিনীপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকার ছবি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। বিধায়ক শিবিরের সরাসরি অভিযোগ, এই হামলার পেছনে রয়েছে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাসের অনুগামীরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে ডেবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধায়ক।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার দুপুরে। ডেবরা ব্লক কার্যালয়ের সামনে আবাস যোজনা ও সরকারি প্রকল্পের ফর্ম তোলাকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দলীয় কোন্দল মেটাতে ঘটনাস্থলে এবং পরবর্তীতে থানায় পৌঁছান বিধায়ক শুভাশিস ওম। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বিধায়ক শুভাশিস ওম জানান, “একটি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ আসছিল। দলের কিছু সৎ কর্মী এর প্রতিবাদ করতে গেলে গন্ডগোল শুরু হয় এবং তারা নিজেদের মধ্যেই থানায় কেস করতে যাচ্ছিল। আমি সেখানে গিয়ে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে আমরা একই পতাকার তলায় লড়াই করি, তাই কেস না করাই ভালো। ঠিক তখনই তোলাবাজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত দলেরই একাংশ আমার ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। মূলত তোলাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েই আমার ওপর এই হামলা।”
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে বিধায়ককে দেখতে যান বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস। তবে বিধায়কের তোলাবাজির অভিযোগ এবং মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে কিছুটা বিস্ময় ও পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, “তোলাবাজির কোনও লিখিত অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। হাসপাতালে এসে দেখলাম বিধায়ক সুস্থই আছেন এবং হাঁটাচলা করছেন। তবে সাংবাদিকরা আসার পরেই দেখলাম মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা হচ্ছে! দলের মধ্যে যদি কোনও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ বা সমস্যা থাকে, তবে তা এভাবে রাস্তায় না এনে বা পাবলিকলি না বাড়িয়ে নিজেদের মধ্যে বসে আলোচনা করলেই ভালো হতো। এভাবে দলকে প্রকাশ্যে কালিমালিপ্ত করা ঠিক নয়।”
বিধায়কের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার রাতে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে দুই গোষ্ঠীর কর্মী-সমর্থকদের জমায়েতকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই ডেবরার এসডিপিও এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্তমানে ডেবরা থানা এলাকায় কড়া পুলিশি টহলদারি চলছে। বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর নিজের দলের জনপ্রতিনিধির ওপর তোলাবাজি রুখতে গিয়ে স্বদলেরই কর্মীদের এমন হামলার অভিযোগ দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে মারাত্মকভাবে প্রকাশ্যে এনে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।