প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তার প্রশাসন আজ নবান্ন অভিযানকে আটকাতে যে কাজ করছে, তাতে রীতিমত ধিক্কার জানাচ্ছেন সেই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া স্বতঃস্ফূর্ত জনতা। তাদের প্রত্যেকেরই বক্তব্য যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার পুলিশের যদি ভয় নাই থাকবে, তারা যদি অভয়ার মৃত্যুকে এবং তার বিচারকে ধামাচাপা নাই দিতে চাইবে, তাহলে এই প্রতিবাদে তাদের এত আপত্তি কিসের? কেন নবান্ন অভিমুখে যেতে দেওয়া হচ্ছে না? নবান্নে গিয়ে তো অভয়ার মা-বাবারা ক্ষমতা দখল করবেন না! তারা শুধু তাদের দাবি জানাবেন! সেটা কেন করতে দেওয়া হচ্ছে না? এই সমস্ত প্রশ্নের মাঝেই যেভাবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে সেই কর্মসূচিতে আটকে দেওয়া হলো এবং যেভাবে তিনি রাস্তায় বসে পড়লেন, তার ফলে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বর্তমানে সেই অবস্থান থেকেই আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার বক্তব্য, অভয়ার মা-বাবাকে পর্যন্ত আজকে মেরেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, এদিন নবান্ন অভিযানে অরাজনৈতিকভাবে অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে ছিলেন বেশ কিছু বিধায়করাও। তবে পার্কস্ট্রিটে তাদের আটকে দেওয়া হয়। যেখানে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তাতেই বসে পড়েন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেই অবস্থান থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পুলিশ এদিনের এই নবান্ন অভিযানে লাঠিচার্জ করেছে, তা নিয়ে সোচ্চার হন তিনি‌। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী “পুতনা রাক্ষসী” বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অভয়ার মা-বাবাকে পর্যন্ত মেরেছে। পাপে ধ্বংস হবে। পাপে ধ্বংস হবে মমতা ব্যানার্জি। আজকে বাংলা বনাম মমতা। নারী বনাম মমতা। কাকে লাঠিচার্জ করেনি? প্রত্যেককে মেরেছে। আমাকেও এক ঘা মেরেছে। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুতনা রাক্ষসী।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারী এদিনের কর্মসূচিতে যে বাধা পাবেন পুলিশের, তা তিনি আগেভাগেই জানতেন। তবে যেভাবে অভয়ার মা-বাবাকে পর্যন্ত পুলিশের লাঠির ঘা খেতে হলো, তা কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। যারা নিজেদের মেয়েকে হারিয়েছেন, যারা এখনও পর্যন্ত বিচার পাননি, যারা বিচারের দাবিতে নবান্ন অভিযানে গিয়েছেন, তাদেরকে এইভাবে পুলিশ লাঠিপেটা করলো কেন? সেই প্রশ্ন আন্দোলনকারীদের মধ্যে রয়েছে। তাই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বেলাগাম আক্রমণ করে নিজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী।