প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২ টি রাজ্যে বর্তমানে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। কিন্তু কোথাও থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে না যে, এসআইআরের আতঙ্কে কোনো মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এখানকার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করছে যে, এসআইআর আতঙ্কে একের পর এক মানুষ প্রাণ হারাতে শুরু করেছেন। যার ফলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিরোধী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের কাছে যে, তৃণমূল এই এসআইআরের ফলে বেশি আতঙ্কিত। তাই কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও তারা তাকে হাতিয়ার করে দাবি করছে যে, এসআইআরের কারণেই সেই মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর যতদিন এই এসআইআর প্রক্রিয়া চলবে, ততদিন যে কোনো স্বাভাবিক মৃত্যুকেই তৃণমূল এসআইআরের কারন বলে দায়ী করে ঘোলা জলে মাছ ধরার যে নিকৃষ্ট রাজনীতি, তা করার কাজ চালিয়ে যাবে বলে নিশ্চিত বিরোধীরা।

প্রথমে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস চেষ্টা করেছিল এসআইআর যাতে পশ্চিমবঙ্গে না হয়। কারণ তারা খুব ভালোমতই জানে যে, এসআইআর হলে তাদের অবৈধ ভোট ব্যাংক ধ্বংস হয়ে যাবে। আর অবৈধ ভোটব্যাংক যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তৃণমূলের ক্ষমতায় ফেরা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে যাবে। আর সেই কারণেই এসআই আর আটকানোর বহু চেষ্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা হলেও, শেষ পর্যন্ত যখন তা আটকানো গেল না, যখন এসআইআর এই বাংলার বুকে চালু হয়ে গেল, তখন তৃণমূল একটি নতুন ফন্দী শুরু করেছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যেও এসআইআর হচ্ছে। কিন্তু সেখানে এসআইআরের আতঙ্ক কোনো মানুষের মৃত্যু না হলেও পশ্চিমবঙ্গে যখনই কোথাও কোনো মৃত্যু হচ্ছে, তখনই তৃণমূল দাবি করছে যে, এই ব্যক্তির এসআইআরের আতঙ্কেই মৃত্যু হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিস্থিতিতে এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি রীতিমত কটাক্ষের ছলেই তৃণমূলকে কথা শুনিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে, এখন পশ্চিমবঙ্গে কোনো মদ্যপ যুবক যদি এক্সিডেন্ট করে প্রাণ হারান, তাহলেও তার জন্য এসআইআর দায়ী। আবার কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে যদি মারা যান, তাহলেও তার জন্য দায়ী হবে এসআইআর।

এদিন এসআইআরে রাজ্যে একের পর এক যেভাবে মৃত্যু হচ্ছে যেভাবে তৃণমূল দাবি করছে যে, আতঙ্কের কারণেই তারা প্রাণ হারাচ্ছেন, এই বিষয় নিয়ে কি বলবেন? আর সেই প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলকে সবসময় মিষ্টি কথায় আক্রমণ করা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “শ্মশান ঘাট থেকে হসপিটাল পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে অলিখিত নির্দেশ চলে গিয়েছে যেই মারা যাবে, এসআইআরে মারা যাবে। মদ্যপ অবস্থায় হাইওয়েতে গাড়ি চালাতে গিয়ে যদি কোনো যুবক মারা যান, তাহলে বলবেন যে, এসআইআরের চাপ এত বেশি ছিল যে, স্পিডটা কন্ট্রোল করতে পারেনি। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মারা গেলেও দায়ী এসআইআর। এটাই এখন পশ্চিমবঙ্গে চলছে। বিহারে তো কেউ মারা যায়নি। আর ১১ রাজ্যে মারা যাওয়ার খবর আছে কোনো? আসলে দুধে জল মেশে। কিন্তু জলে দুধ মিশিয়ে দিলে মুশকিল হয়।”