প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গোটা ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশ বিজেপির দখলে রয়েছে। কিন্তু বাংলার ক্ষমতা দখল করার ব্যাপারে বিজেপি অতটা সিরিয়াস নয় কেন? এই প্রশ্ন এতদিন বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের বাংলার প্রতি মনোযোগ দেখে সেই ধারণা কিছুটা ভাঙতে শুরু করেছিল। তবে সকলেই নজর রাখছিলেন বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। এই রাজ্যের বিজেপির নেতা কর্মীরা বলাবলি শুরু করেছিলেন যে, বিহারের ফলাফল যদি পক্ষে চলে আসে, তাহলে বাংলা নিয়ে পুরোপুরি ঝাপাবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর আজ প্রত্যাশা মতই রেকর্ড মার্জিনে বিহারে জয়লাভ করেছে এনডিএ জোট। অভূতপূর্ব ফলাফল করেছে বিজেপিও। আর তারপরেই আওয়াজ উঠেছে যে, অঙ্গ, কলিঙ্গ, অর্থাৎ বিহার এবং উড়িষ্যা তো দখল করে ফেললো বিজেপি। তবে এই অঙ্গ এবং কলিঙ্গের সঙ্গে আর একটা নাম সবসময় জুড়ে থাকে। সেটা হচ্ছে, বঙ্গ। একসময় এই বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার নাম একসাথে উচ্চারিত হতো। তবে বিহার এবং উড়িষ্যায় বিজেপি ক্ষমতা দখল করলেও, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের এত ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও এবার কি তাকে ব্যবহার করে নিজেদের কৌশল কাজে লাগাতে পারবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব? তবে আজ বিহারের যে ফলাফল সামনে এসেছে, তারপর কার্যত কনফিডেন্ট বঙ্গ বিজেপির নেতারা। বিধানসভায় নিজের ঘর থেকেই সেলিব্রেশনে মেতে ওঠার পর “জয় মা কালী বলে এবার বঙ্গ দখল হবে” তৃণমূলের চাপ বাড়িয়ে তেমনই হুঙ্কার দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

আজ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তো বটেই, এমনকি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নেতা কর্মীরাও তাকিয়েছিলেন, বিহারের নির্বাচনী ফলাফলের দিকে। কারণ তারা খুব ভালো মতই জানেন যে, বিহারে যদি ফলাফল ভালো না হয়, তাহলে তারা চাপে পড়ে যাবেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলা নিয়ে আর সিরিয়াস হবে না। কিন্তু বিহারে যে উজ্জীবিত করার মত ফলাফল এনডিএ জোট এবং এককভাবে বিজেপির হয়েছে, তাতে আর পিছনে ফিরে তাকানোর মত সময় নেই গেরুয়া শিবিরের। এখন তাদের লক্ষ্য একটাই হওয়া উচিত, বাংলায় যে সমস্ত বিজেপি নেতাকর্মীরা দাঁতে দাঁত চেপে এতদিন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাদের উৎসাহ দেওয়া এবং ২৬ এর নির্বাচনের জন্য জয়লাভের লক্ষ্যে সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া। কর্মীদের মধ্যে যতটুকু সংশয় রয়েছে, সবটুকু দূর করে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে সর্বস্ব চেষ্টা করা উচিত গেরুয়া শিবিরের বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর নেতা কর্মীদের সেই উজ্জীবিত মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে বিহারের ফলাফলের পর রাজ্য বিধানসভায় সেলিব্রেশনে মেতে উঠে নিজের ঘর থেকে শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়ে দিলেন যে, অঙ্গ এবং কলিঙ্গর পর এবার তারা দখল করতে চলেছে বঙ্গ।

এদিন বিধানসভায় বিহারের জয়লাভের পরেই সেলিব্রেশানে মেতে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়করা। রীতিমত ব্যান্ড পার্টি নিয়ে উচ্ছাসে ফেটে পড়েন তারা। এমনকি বাইরে বেরিয়ে জনসাধারণের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করতেও দেখা যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। আর তারপরেই বিধানসভায় নিজের ঘর থেকে বিহারের এই ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মোদিজীর রাষ্ট্রবাদ, বিকাশবাদ সমস্ত কিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে একটা বড় জয় এসেছে। ১৯০৫ সালের আগে আমরা, বিহার সব একই ছিলাম‌।‌ অবিভক্ত বাংলা। এই ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না। তাই বিহারকে বলা হতো অঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গকে বলা হয় অঙ্গ, উড়িষ্যাকে বলা হয় কলিঙ্গ। জয় জগন্নাথ বলে কলিঙ্গ হয়েছে। জয় সীতা মাতা কি জয় বলে অঙ্গ হলো। এবারে হরেকৃষ্ণ মন্ত্রের সাথে জয় মা কালী বলে বঙ্গও হবে।”