প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম-কানুন যে কিছুই মানেন না, তার আরও একটি নমুনা সামনে চলে এসেছে। যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কয়লা কাণ্ডের তদন্ত করছে, যেখানে তারা প্রতীক জৈন এবং আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময় সেখানে গিয়ে তার দলের নথি চুরি করা হচ্ছে বলে দাবি করে বেশ কিছু ফাইল সেখান থেকে নিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার পর থেকেই বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন, এতদিন চাকরি চোর তৃণমূলকে দেখেছে বাংলা, আর এবার ফাইল চুরি দেখলো বাংলার মানুষ। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে এই কান্ড ঘটাতে পারেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। আর তার মধ্যেই তৃণমূল নেত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
একজন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক পদে থেকে কি করে তদন্তকারী সংস্থা যখন তদন্ত চালাচ্ছে, তখন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন? কি করে সেখানে পৌঁছে গিয়ে বিভিন্ন নথি নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই বলাবলি করছেন, তাহলে কেন ইডি তাকে বাধা দিলো না? কেন মুখ্যমন্ত্রী এত বড় সাহস পেয়ে গেলেন সেখান থেকে বেশ কিছু নথি নিয়ে আসার? এটা তো সরাসরি তদন্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো! ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি নিয়ে আদালতে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এইভাবে ফাইল ছিনিয়ে আনার ঘটনাকে আক্রমণ করতে ছাড়লেন না রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর এইভাবে ইডির তল্লাশি চলাকালীন সেখান থেকে বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার ঘটনাকে কটাক্ষ করেন তিনি। দিলীপবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কোনো কিছু সিস্টেমে নেই। আর কেউ সুরক্ষিত নয়। ইডির তল্লাশি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে চলে যান, ফাইল ছিনিয়ে নিয়ে আসেন। তার রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। কিন্তু গোটা প্রশাসন কেন তার সঙ্গে যাবে? গোটা সরকারটাই চোরেদের সরকার, লুটেরাদের সরকার হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে যা চলছে, এখানেও ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।”