প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা থেকে তল্লাশি চালানো হয় প্রতীক জৈন এবং আইপ্যাকের অফিসে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে যখন তল্লাশি চলছে, ঠিক তখনই সেখানে পৌঁছে গিয়ে তার দলের বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে একাধিক পুলিশ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সকলের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ছিল, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক পদে থাকা সত্ত্বেও, পুলিশ থেকে শুরু করে একাধিক প্রশাসনিক কর্তাকে নিয়ে গিয়ে এইভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করলেন এবং নথি নিয়ে বেরিয়ে এলেন, তাতে কি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে না? আর এসবের মাঝেই আজ ইডির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করা হয়। যেখানে পার্টি করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে। আর সেই বিষয় নিয়ে খবর আসতেই দুই পুলিশ কর্তাকে রীতিমত সতর্ক করে দিয়ে তাদের ঘুম ছুটিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং তার দল বিজেপি মাঝেমধ্যেই দাবি করে যে, পুলিশ বর্তমানে তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাকের অফিসে গিয়ে যখন তল্লাশি চলছে, তখন সেখান থেকে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করে এনেছেন, সেখানে সেই সময় থেকেই গোটা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও বা মুখ্যমন্ত্রী বিতর্কের মুখে পড়ে আবার দাবি করেছেন যে, তিনি তৃণমূল নেত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছেন, তার দলের নথি রক্ষা করতে। তবে এখানেই বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন যে, মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী হিসেবেই যদি গিয়ে থাকেন, তাহলে তার সঙ্গে কেন পুলিশকর্তারা সেখানে গেলেন? কেন রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের তার সঙ্গে সেখানে দেখা গেল? আর এসবের মধ্যেই তৃণমূল নেত্রী নিজের বক্তব্যে যে নিজেই ফেঁসে গিয়েছেন, সেই ব্যাপারে দ্বিমত নেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জোড়া পিটিশন দায়ের করতেই আরও চাপ বাড়ছে রাজ্য সরকারের। যার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্যের ডিজিকে রীতিমত চাপের মুখে ফেলে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম দিবসে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই ইডির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে যেভাবে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, সেই বিষয় নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “একটু আগেই আমি খবর পেয়েছি, ইডি সুপ্রিম কোর্টে কেস ফাইল করেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পুলিশ দপ্তরের বিরুদ্ধে। মনোজ বর্মা এবং রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান।” অর্থাৎ যেভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং বেশ কিছু পুলিশ আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছে গিয়ে পরিস্থিতিকে বানচাল করার চেষ্টা করেছিলেন, তাতে তাদের বিরুদ্ধে ইডি যে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে এবং সেই কারণেই যে তারা শীর্ষ আদালতে পৌঁছে গিয়েছে, সেই কথা বুঝিয়ে দিয়ে দুই পুলিশ কর্তাকে করুণ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।