প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছে যে, এবার তাদের পায়ের তলার মাটি হালকা হতে শুরু করেছে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত হতে হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ক্ষেত্রে। ফলে নন্দীগ্রাম তো দূরের কথা, রাজ্যের সিংহভাগ আসনেই যে সঠিকভাবে ভোট হলে তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত, তা বুঝেই কি এবার খেলা ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে এই রাজ্যের শাসক দল? রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্প এনে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন এই প্রকল্প সেখানে চালু করেছেন, ঠিক তেমনই নন্দীগ্রামেও এই প্রকল্প চালু করে ভোটের আগে মানুষের মন পাওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। তবে যতই এই সমস্ত প্রকল্প করে তৃণমূল মানুষের মন পাওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, গোটা বিষয়ে এবার নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বেশ কিছুদিন ধরেই শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল যে, ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বিভিন্ন জায়গায় সেবাশ্রয় প্রকল্প চালু করেছেন, ঠিক তেমনই নন্দীগ্রামেও এই প্রকল্প চালু করবে তৃণমূল। যার ফলে বিরোধীরা এটাও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন যে, তাহলে কি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ? তিনি কি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারছেন না? আর সেই কারণেই কি তার ভাইপো এবার ময়দানে নেমে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করছেন? জানা গিয়েছে, আগামীকাল থেকেই নন্দীগ্রামে এই সেবাশ্রয় প্রকল্প চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর সেই বিষয়েই এবার তৃণমূল হিন্দুদের সহ্য করতে পারে না। তাই হিন্দুদের সর্বনাশ করার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রন ট্যাবলেট যাতে সকলকে না খাইয়ে দেয়, সেই বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন থাকার বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন ঝাড়গ্রামে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে মিলিত হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় প্রকল্প চালু করার ব্যাপারে তৃণমূলের উদ্যোগ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, “ওনারা সেবাশ্রয় শুরু করতেই পারেন। কিন্তু ভোটে কোনো লাভ হবে না। পাঁচ বছর ধরে দেখা নেই। একমাস পরেই ভোট ঘোষণা হবে। নন্দীগ্রামের মানুষ, জঙ্গলমহলের মানুষ আত্মীয় কুটুম্বকে ছেড়ে পরিযায়ীদের গ্রহণ করবে কেন? তৃণমূলের সবথেকে বড় রাজনৈতিক অস্ত্রের নাম, মমতা ব্যানার্জি। তিনি যেখানে হেরে গিয়েছেন, সেখানে ওদের আর কোনো রাজনৈতিক অস্ত্র নেই। আর এটার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হলো, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জি ব্যর্থ। তাই ওনার ভাইপো নেমেছেন, লোককে প্যারাসিটামল বিতরণ করতে। আমি বলেছি, ওষুধপত্র দেখে খেতে। কারণ এরা হিন্দু জনসংখ্যা কমাতে চায়। জন্মনিয়ন্ত্রণের ট্যাবলেট আবার না খাইয়ে দেয়।”