প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআরের ফলে তৃণমূল যে অত্যন্ত ভীত, এতদিন অবৈধ ভোটারদের কাজে লাগিয়ে তারা যেভাবে একের পর এক নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছে, এবার সঠিকভাবে এসআইআর হওয়ার ফলে যে তাদের সেই কৌশল আর কাজে দেবে না, তা বুঝতে পেরেই প্রথম থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের শাসক দলকে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। তবে এতদিন মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ ছিলো তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এবার ফারাক্কায় এসআইআরের শুনানি চলাকালীন তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে তার অনুগামীরা যে তান্ডব চালালেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, এরপরেও কি চুপ করে বসে থাকবে নির্বাচন কমিশন? কবে তারা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে এই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে? এইভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া কি একজন বিধায়কের কাজ হতে পারে?
ইতিমধ্যেই এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূল দলের একাধিক মন্ত্রী এবং জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, এসআইআরের শুনানি যেভাবে হচ্ছে, যেভাবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন, তাতে তারা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। যে প্রক্রিয়ায় গোটা ব্যবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে রাজ্যের শাসক দল বুঝতে পেরেছে যে, প্রচুর অবৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে। আর এতদিন তারা যাদেরকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছে, এবার আর সেই কৌশল কাজে দেবে না। আর সেই সমস্ত অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ গেলে তৃণমূলের যে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না, তা বুঝতে পেরেই যে তাদের এই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা, সেই সম্পর্কে দ্বিমত নেই বিরোধীদের মধ্যে। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি, একজন বিধায়ক কি এইভাবে আইন হাতে তুলে নিতে পারেন? এসআইআর তো করছে নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যখন গোটা রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় শুনানি হচ্ছে, ঠিক তখনই সেই শুনানি কক্ষে প্রবেশ করে তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে যে তান্ডব আজ প্রত্যক্ষ করলো গোটা রাজ্যের মানুষ, তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, এখনই যদি এই পরিস্থিতি হয়, তাহলে ভোটের সময় এরা কি করবে?
সূত্রের খবর, আজ এসআইআরের শুনানি চলাকালীন হঠাৎ করেই ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম সেই শুনানি কক্ষে প্রবেশ করেন। যেখানে তার সঙ্গে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন। আর সেই শুনানি কক্ষের ভেতরে ঢুকে রীতিমত তান্ডব চালাতে দেখা যায় বিধায়কের নেতৃত্বে থাকা অনুগামীদের। রীতিমত শুনানির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে দেন তারা। স্বাভাবিক ভাবেই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া যখন চলছে, যখন নির্বাচন কমিশনের নজর দারিতে গোটা ব্যবস্থা চলছে, তখন তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে তার অনুগামীদের এই তান্ডব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সকলেই বলছেন, এরপরেও যদি নির্বাচন কমিশন এই বিধায়কের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গ্রহণ না করে, তাহলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়া তো দূরের কথা, ভোটের নামে সবটাই প্রহসন হবে বলেই ধরে নিতে হবে। তাই এসআইআরের শুনানি চলাকালীন তৃণমূল বিধায়ক এবং তার অনুগামীদের এই ঔদ্ধত্যকে বন্ধ করতে এবার নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপ হিসেবে কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যবাসীর।