প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে নজর ছিল গোটা রাজ্য তথা দেশবাসীর। সম্প্রতি যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে চায়, তখন সেখানে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি একাধিক প্রশাসনিক কর্তাকে নিয়ে গিয়ে তিনি সেখান থেকে বেশ কিছু নথি নিয়ে আসেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছেন এবং গোটা প্রক্রিয়ায় নথি নিয়ে চলে এসেছেন, সেখানে তাকে কেন ছাড় দেওয়া হবে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর এসবের মধ্যেই আজ সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলার শুনানিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানালো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।

প্রসঙ্গত, যেদিন আইপ্যাকের অফিসে এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পৌঁছে গিয়েছিল, সেই সময় যেভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে চলে গিয়েছিলেন, তার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কেন তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। তবে পরবর্তীতে ইডির পদক্ষেপ এবং তাদের সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যাওয়ার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গোটা বিষয়টিকে মোটেই হালকা ভাবে নিচ্ছে না। আজ শীর্ষ আদালতে আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তল্লাশি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং নথিপত্র নিয়ে এসেছিলেন, তা মোটেই সামান্য বিষয় নয়। তাই গোটা ঘটনায় আজ শীর্ষ আদালতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি গোটা ঘটনায় যে তারা কোনোমতেই যত বড়ই প্রভাবশালী হোক, তাকে যে রেহাই পেতে দিতে নারাজ, তা স্পষ্ট করে দিলো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, এদিন ইডির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, “এই মামলা একেবারেই ব্যতিক্রমী। এখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযুক্ত। চুরির কাজটা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই করেছেন। আর এই ঘটনা ঘটেছে পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপির উপস্থিতিতে। তাই এই ঘটনায় কোনো এফআইআর নথিভুক্ত হলেও, তার সঠিকভাবে তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।” স্বাভাবিকভাবেই এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই।”