প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সম্প্রতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা এলাকা। যেখানে একটি অংশের মানুষ আইন হাতে তুলে নিয়ে ট্রেন লাইন অবরোধ করার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার খেলায় নেমেছে বলে অভিযোগ। এমনকি ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছেন তারা। মূলত, এক ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাটি কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভ। আর গোটা ঘটনায় দীর্ঘ সময় পরে পুলিশের সক্রিয় মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয় বিরোধীরা। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনা ঘটার দিন যে মন্তব্য করেছিলেন, যেভাবে শুক্রবারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি একটি প্রতিক্রিয়া দেন, তা নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয় বিরোধীদের মধ্যে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যপালের কাছে চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার আবেদন জানান। আর এই পরিস্থিতিতে অবশেষে সেই বেলডাঙ্গার ঘটনা নিয়ে যে মামলা হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিরাট নির্দেশ দিয়ে দিলো কলকাতা হাইকোর্ট।

আজ বেলডাঙ্গার ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বড় নির্দেশ দেওয়া হয়। যেখানে বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা ওঠে। আর সেখানেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এমনকি গোটা ঘটনায় পরিস্থিতি যাতে আয়ত্তের বাইরে বেরিয়ে না যায়, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে এনআইএ তদন্তে নিয়েও আদালতের বড় পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরেই গোটা বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেলডাঙায় যে পরিস্থিতি প্রথম থেকে তৈরি হয়েছিল, তাতে প্রথম দিন থেকেই যদি প্রশাসনের সদর্থক পদক্ষেপ দেখা যেত, তাহলে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে বেরিয়ে যেত না। কিন্তু প্রথম দিন রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়। এমনকি প্রশাসন যে আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরেও যারা অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে ঘটনা ঘটার অনেক পরে যখন প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে, তখন পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে বলেই দাবি করেন সকলে। আর অবশেষে গোটা ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বেলডাঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হলো। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।