প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গতকাল বেহালার সখের বাজারে বিজেপির পক্ষ থেকে পরিবর্তন সংকল্প সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই সভা শুরুর একদম প্রথম থেকেই তৃণমূল বিজেপি কর্মীদের উত্তেজিত করতে শুরু করে। এমনকি তাদের সভার কাজ যাতে তারা না চালাতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন রকম প্ররোচনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সংসদ বিপ্লব দেব বক্তব্য রেখে চলে যাওয়ার পরেই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে যায়। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, তৃণমূলের কর্মীরা মঞ্চে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে এবং তাদের যে সমস্ত চেয়ার ছিলো, তা ভাঙচুর করা হয়েছে। আর এতদিন জেলায় জেলায় বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই চক্রান্তের খবর সামনে আসছিলো। কিন্তু এবার খাস কলকাতায় যে ঘটনা ঘটে গেল, তারপর এমন নির্লজ্জ প্রশাসন এবং বর্বর সরকার অতীতে কেউ দেখেনি বলেই দাবি করছেন বিজেপি নেতারা। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদেই আজ রাস্তায় নামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছে যে, তাদের এবার ক্ষমতায় ফিরে আসা অত্যন্ত চাপ হয়ে যাচ্ছে। আর সেই কারণেই কোনোভাবেই বিজেপিকে আটকানো যখন যাচ্ছে না, তখন তারা বিজেপি নেতাদের প্রাণে মেরে ফেলার রাস্তা বেছে নিয়েছে বলেই মাঝেমধ্যেই অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। আর গতকাল খাস কলকাতার বুকে পরিবর্তন সংকল্প সভায় যেভাবে বিজেপির মঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলো, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বারবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্ররোচনা দেওয়া হলেও এবং প্রশাসনকে বিজেপি কর্মীরা গিয়ে বলা সত্ত্বেও কেন প্রশাসন আগেভাগে পদক্ষেপ নিলো না, তা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বরা। তবে তৃণমূল যদি ভেবে থাকে যে, কলকাতা তাদের শক্ত ঘাঁটি, আর সেখানে তারা এইভাবে বিজেপিকে ভয় দেখিয়ে কোণঠাসা করে দেবে, তাহলে তারা যে ভুল করছে, তা আজ হাতেনাতে বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন বেহালার সখের বাজারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে বিজেপি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রচুর বিজেপি নেতৃত্ব এবং কর্মীদের সঙ্গে করে নিয়ে গোটা ঘটনার প্রতিবাদে একটি মিছিলে যোগ দেন তিনি। আর সেই মিছিল থেকেই তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও দেখা যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানেই তৃণমূল হিংসা চালাচ্ছে, যেখানেই তৃণমূল বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, প্রথম দিন থেকেই সেখানে পৌঁছে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কর্মীদের সাহস যোগানোর চেষ্টা করছেন। সামনেই বিধানসভা ভোট। আর তৃণমূল তার আগে যেভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে যদি তিনি কর্মীদের পাশে গিয়ে না দাঁড়ান, তাহলে তারা আরও ভয় পেয়ে যেতে পারে। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বেহালার সখের বাজারের ঘটনার প্রতিবাদ করে তৃণমূলের রাতের ঘুম কেড়ে নিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।