প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গতকালই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি বৃহস্পতিবার ২০ জন বিধায়ককে নিয়ে নাজিরাবাদে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, সেই এলাকা পরিদর্শন করবেন। এমনকি এলাকা পরিদর্শনের পর তিনি নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত একটি মিছিল করবেন। আর শুভেন্দু অধিকারী প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে যেভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়, স্বাভাবিকভাবেই সকলেই তাকিয়ে ছিলেন যে, এই ব্যাপারে প্রশাসনের পদক্ষেপ কি হয়। আর অতীতেও প্রশাসন যেভাবে শুভেন্দুবাবুর প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে বাধা দান করেছিল, এক্ষেত্রেও শুভেন্দু অধিকারী আজ যাচ্ছে শুনেই আগেভাগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হলো পদক্ষেপ। যাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই শুভেন্দু বাবুকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করছে বিরোধীরা। তবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। পুলিশ এই পদক্ষেপ নেওয়ার পরেই পাল্টা তিনিও চলে গেলেন কলকাতা হাইকোর্টে।

প্রসঙ্গত, গতকাল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দুর্গাপুরে কর্মসূচির পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বৃহস্পতিবার তিনি ২০ জন বিধায়ককে নিয়ে নাজিরাবাদে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে যেভাবে প্রশাসনের এবং দমকলের বিভাগের গাফিলতি সামনে এসেছে, তার বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ নেবেন এবং সেখানে পৌঁছে যাবেন। তবে এত সহজে শুভেন্দু অধিকারীর এই কর্মসূচিতে প্রশাসন যে অনুমতি দেবে না, এটা তিনিও খুব ভালো মত জানতেন। তাই প্রশাসন কি করে, তার দিকে সকলের নজর ছিলো। অবশেষে খবর পাওয়া গেল যে, শুভেন্দু অধিকারী আজ সেখানে যাওয়ার আগেই যে ঘটনাস্থলে এই ঘটনা ঘটেছে, তার ১০০ মিটারের মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ কোনোভাবেই যাতে জমায়েত না করতে পারেন কেউ, তার জন্যই পুলিশের এই পদক্ষেপ। তবে পুলিশ যে শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়কদের এই এলাকায় আসার ক্ষেত্রেই বাধাদান করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই সম্পর্কে কারও মধ্যেই কোনো দ্বিমত নেই।

এদিকে পুলিশের এই অতি সক্রিয়তার খবর পেয়েই কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে ইতিমধ্যেই নাজিরাবাদে যাওয়ার জন্য তার যে পদক্ষেপ, সেই সম্পর্কে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই আদালতের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে এই মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশ বিভিন্ন কৌশল করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপি বিধায়কদের এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আটকে দিতে চাইলেও, শেষ পর্যন্ত আদালত কি নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।