প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে যখনই মানুষ অত্যাচারিত হয়, যখনই মানুষ বিপদে পড়ে, তখনই সেখানে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু যখনই তিনি আর্ত মানুষের পাশে পৌঁছে যান, তখনই তাকে পুলিশ দিয়ে বাধাদান করা হয়। নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকালই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি আজ সেখানে যাবেন। কিন্তু তিনি সেই কথা বলার পরেই পুলিশের অতি সক্রিয়তা নজরে আসে। যেখানে আজ ১৬৩ ধারা জারি করার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ কোনোভাবেই যাতে শুভেন্দু অধিকারী সেখানে যেতে না পারেন, তার জন্য সব রকম চেষ্টা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু করে দেওয়া হয়। তবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে আইনকে মান্যতা দিয়ে ১৬৩ ধারা জারি থাকলেও সেখানে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরেই মন্ত্রীরা ঘটনা ঘটার অনেক পরে এখানে এলেও, তাদের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বিজেপির ক্ষেত্রেই এই সমস্ত ধারা লাগু করে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে গর্জে উঠলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
প্রসঙ্গত, নাজিরাবাদে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই সোচ্চার ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি ঘটনা ঘটার পর সেখানে যাবেন না, তাহলে উদ্ধারকার্যে অনেকটা অসুবিধা হতে পারে। তাই গতকাল তিনি আজ নাজিরাবাদে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে যাবেন বলে জানিয়ে দেন। আর এতদিন রাজ্যের মন্ত্রীরা সেখানে গেলেও কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু যেই শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে, সেখানে তিনি যাবেন, সাথে সাথেই পুলিশের সক্রিয়তা নজরে এসেছে। ১৬৩ ধারা জারি করে শুভেন্দু অধিকারী যাতে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে সেখানে যেতে না পারেন, তার জন্য পুলিশ সমস্ত রকম কৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী, সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনকে মান্যতা দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এই রাজ্যের পুলিশ কতটা দলদাসের মত আচরণ করছে এবং কিভাবে শাসকের জন্য আইন এক থাকলেও বিরোধীদের জন্য আলাদা আইন প্রয়োগ করছে, তা তুলে ধরে সোচ্চার হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন নাজিরাবাদে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে পৌঁছে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “পৌর মন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম এসেছেন, অরূপ বিশ্বাস এসেছেন। ৩২ ঘণ্টা পর সুজিত বসু এসেছেন। তৃণমূলের অন্য কাউন্সিলররা এসেছেন। কাউকে বাধা দেয়নি। আমি গতকাল দুর্গাপুর থেকে জানিয়েছি, দূর থেকে দেখব আমি। আমরা বিজেপি আজ এসেছি বলেই ১৬৩ ধারা লাগিয়েছে। অথচ বিরোধী দলনেতা মন্ত্রীর সমমর্যাদার। আমাদের টিম মৃতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। কাজ করছে।”