প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল এবং তার প্রত্যেকটি মন্ত্রীরা যে প্রতিক্ষেত্রে ব্যর্থ, তা একের পর এক বিপর্যয়ের ঘটনার পরে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই মেসি কাণ্ডের প্রভাব এখনও ভুলতে পারেনি কলকাতা তথা রাজ্যবাসী। রাজ্যের এক মন্ত্রীর অপদার্থতা সামনে আসার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। আর তার মধ্যেই সম্প্রতি রাজ্যে ঘটে গিয়েছে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। নাজিরাবাদের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রাজ্যের দমকলমন্ত্রী প্রায় ৩৬ ঘন্টা পর সেখানে গিয়েছিলেন। একের পর এক মৃত্যু মিছিল দেখেও যে সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উন্মোচন হয় না, তারা কিসের সরকার, তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। এখন সেই দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু অনেক কথা বলছেন। অডিট সহ ব্যবসায়ীদেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে যে, দমকলমন্ত্রী তাহলে সারা বছর ধরে করেনটা কি? আর সেই প্রশ্নই তুলে ধরে তার মুখোশ খুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
ইতিমধ্যেই নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সবথেকে বেশি প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এত বড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও কেন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছে গেল না? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি রাজ্যে দমকল মন্ত্রী বলে কেউ একজন আছেন, তিনি কেন ঘটনার পর সাথে সাথেই সেখানে পৌঁছতে পারলেন না? কেন প্রায় ৩৬ ঘন্টা পর তাকে সেখানে দেখা গেল? তা নিয়েও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে সাধারণ মানুষদের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি তিনি রাজ্যের দমকলমন্ত্রী? যিনি এত উৎসব, অনুষ্ঠান করেন, পুজোতে থাকেন, তিনি মানুষের বিপদে কেন থাকতে পারলেন না? তাহলে মন্ত্রীর চেয়ারে তিনি বসে আছেন কোন যোগ্যতায়? যখন এই রাজ্যের দমকলমন্ত্রী অডিটের কথা বলছেন, তখন তার নিজেরই অডিট হওয়া উচিত বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আমাদের প্রশ্ন, এই দপ্তর এবং এই দপ্তরের মন্ত্রী যিনি আছেন, তিনি কি করেন গোটা বছর? শুধু পুজো, অমুক নাইট, তমুক নাইট, জন্মদিন পালন, এটাই কি তার কাজ? তাহলে ছেড়ে দিক না। পুজো মন্ত্রী হোক। দমকল মন্ত্রী হওয়ার কি দরকার? সে গোটা বছর করছে টা কি? তার তো আগে অডিট হওয়া দরকার। অন্যদের কথা ছেড়ে দিন। আগে দমকল মন্ত্রীর অডিট হওয়া উচিত যে, সে গোটা বছর কি করে? নাকি শুধু ঘুরে বেড়ায়, মস্তি করে বেড়ায়!”