প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের পুলিশ দলদাসের মত আচরণ করে এবং সেই কারণেই তৃণমূলের কথামত চলে তারা যে বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী নেতাদের সভা-সমিতিতে অনুমতি দেয় না, তা এতদিন খুব ভালো মত করেই প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্যবাসী। আর যখন পুলিশ অনুমতি না দিলেও বিরোধী নেতারা আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে আসে, তখন পুলিশের আর কিছু করার থাকে না। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী নেতারা আদালতের অনুমতি নিয়ে সভা করতে গেলেও তাদের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলার মত ঘটনা ঘটছে। অনেক জায়গায় রাস্তায় পুলিশের সামনেই তাদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পনা মাফিক রাজ্যের শাসকদলের কর্মীরা হেনস্থা করার চেষ্টা করছেন। আর তা সত্ত্বেও পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে বলে অভিযোগ রয়েছে বিজেপি নেতাদের। এমনকি সম্প্রতি খাস কলকাতার বুকে বিজেপির এক সভা মঞ্চ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা যেভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তার মামলাতেই এবার বিরাট নির্দেশ দিয়ে দিলো কলকাতা হাইকোর্ট। যার ফলে বিরোধী নেতারা যেমন স্বস্তি পেলেন, ঠিক তেমনই যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেল এই রাজ্যের পুলিশ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে যেখানেই বিরোধী নেতারা কর্মসূচি করতে যাচ্ছেন, সেখানেই তাদের টার্গেট করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে চন্দ্রকোনাতে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় আসার সময় তার গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যার ফলে রাতভর থানায় অবস্থানে বসে থাকেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। সর্বশেষ ঘটনা ঘটে খাস কলকাতার বুকে। যেখানে বিজেপির সাংসদ তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সভার পর বিজেপির সেই মঞ্চ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আর এই ঘটনাতেই অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। আর একের পর এক বিরোধী নেতারা যখন কর্মসূচি করছেন, যখন তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না এই রাজ্যের পুলিশ, তখন গোটা বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। আর সেই মামলাতেই এবার বড় নির্দেশ দিলো কলকাতা হাইকোর্ট।
সূত্রের খবর, এদিন কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারী করা মামলায় বড় নির্দেশ দেওয়া হয়। যেখানে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটনা না ঘটে, তা দেখতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আর গোটা বিষয়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর করা মামলায় আদালতের নির্দেশে যে যথেষ্ট চাপে পড়ে গেল এই রাজ্যের পুলিশ, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।