প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের প্রশাসন কিভাবে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে প্রতিহিংসা পরায়ণ আচরণ করেন এবং পুলিশকে লেলিয়ে দেন, তা এতদিন ধরে খুব ভালো মতই প্রত্যক্ষ করেছেন সকলে। আর সেই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে বঙ্গভবনের সামনে দিল্লী পুলিশ জনগোতেই চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছেন। তিনি আবার বলতে শুরু করেছেন যে, বাংলায় অমিত শাহ গেলে তারা রেড কার্পেট পেতে রাখেন। কিন্তু দিল্লিতে তারা আসলে কেন ব্ল্যাক কার্পেট পেতে রাখা হয়েছে? অর্থাৎ এই বক্তব্য রেখে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করার চেষ্টা করছেন যে, প্রতিহিংসা পরায়ন আচরণ করছে তাদের সাথে দিল্লি পুলিশ। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে এই ধরনের কথা বলার কোনো এক্তিয়ার নেই, তা পাল্টা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্ষেত্রে বাংলায় কিভাবে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে লেলিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে জঘন্য আচরণ করেন, সেই কথাও উল্লেখ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

আজ সকাল থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, দিল্লি পুলিশ অতি সক্রিয় হয়ে বঙ্গভবনে এসআইআরে যে সমস্ত পরিবারের মানুষরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের সদস্যরা যেখানে এসেছেন, সেখানে তারা তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে পুলিশ প্রশাসন যখন সেখানে পৌঁছে গিয়েছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর মনে যদি কোনো ভয় নাই থাকবে, তাহলে কেন তিনি এত সোচ্চার হচ্ছেন? তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহল। পাশাপাশি তারা এটাও বলছেন যে, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সামান্য দিল্লি পুলিশের এই বঙ্গভবনের পৌঁছে যাওয়াতেই এত চেঁচামেচি করছেন। কিন্তু তিনি এবং তার রাজ্যের প্রশাসন যেভাবে এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিরোধীদের প্রতিমুহূর্তে হেনস্থা করেন, প্রতিনিয়ত বিরোধী দলনেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানোর চেষ্টা হয়, এমনকি বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রশাসন দিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হয়, সেক্ষেত্রে কেন তখন তার এই তৎপরতা দেখা যায় না? কেন তিনি তখন নিজের প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন না? তাই দিল্লি পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে যে এই সমস্ত বক্তব্য মানায় না, তা পাল্টা বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন দিল্লি পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পাল্টা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উনি জেট প্লাস সিকিউরিটি পান। উনি ব্লু বুক অনুযায়ী যা পান, সেটা দেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কথা না বলাই ভালো। অন্য রাজ্যে বিরোধী দলনেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদরা যে সম্মান পান, পশ্চিমবঙ্গে উনি কি ধরনের আচরণ করেন, সেগুলো মানুষ জানে। গত পাঁচ বছরে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের বিরোধী দলনেতাকে ৮৬ টা মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। ১০৪ বার কোর্টে গিয়ে কর্মসূচির অনুমোদন আদায় করতে হয়েছে এবং সাড়ে ১১ মাস বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করে বাইরে রেখেছেন। তাই আপনি একটু কম বলুন। বেশি বললেই দুর্গন্ধ ছড়াবে।”