প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল সকালেই একটি নাটকীয় চিত্র সামনে এসেছিল। যেখানে দিল্লির মাটিতে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি বঙ্গভবনের সামনে চলে গিয়েছেন এবং সেখানে যে সমস্ত পুলিশরা রয়েছেন, তাদের তিনি সেখান থেকে সরে যেতে বলছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী এটাও সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন যে, দিল্লির বঙ্গভবনে এসআইআর সংক্রান্ত কারণে যে সমস্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাদের আত্মীয় পরিজনদের তিনি নিয়ে এসেছেন। কিন্তু সেখানেও দিল্লি পুলিশ গিয়ে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার কতটা সত্যতা রয়েছে, তিনি সবসময় যেভাবে মিথ্যার বিষয় নিয়ে রাজনীতি করেন, এক্ষেত্রেও তিনি সেইরকম মিথ্যা কথা বলছেন কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। অবশেষে দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে পুলিশের অতি সক্রিয়তার যে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল, তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা বলে খারিজ করে দিলো দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বঙ্গভবনের ভেতরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সর্বৈব মিথ্যে। এক্ষেত্রে কোনো পুলিশ বঙ্গভবনের ভেতরে প্রবেশ করেনি।

গতকাল সকাল থেকেই সরগরম ছিল দিল্লির রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎ করেই বাড়ির এক কাপড়ে তিনি বঙ্গভবনের সামনে পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পৌঁছে গিয়েছেন বলে দাবি করেন। এমনকি বঙ্গভবনের ভেতরে ঘরে ঢুকে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমশ রাজ্য রাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি নতুন একটি চিত্রনাট্য তৈরি করতে পারেন বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির কাপড় পড়ে চলে আসতে পারলেন, কিন্তু মাইক্রোফোনটা নিতে কেন ভুললেন না, তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এসবের মধ্যেই বঙ্গভবনের ভেতরে পুলিশের তল্লাশি চালানো নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ করেছেন, তাকে কার্যত খারিজ করে দিলো দিল্লি পুলিশ। বরঞ্চ তারা জানিয়ে দিলো যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতে জেট প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যই দিল্লি পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই যে আর ঢোপে টিকলো না, সেই নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরেই পাল্টা মুখ খোলে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনের দেবেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তব বলেন, “আজ কোনো পুলিশ বঙ্গভবনে প্রবেশ করেনি। বাসিন্দাদের চলাচলে কোনো বিধি নিষেধ ছিল না। বঙ্গভবনের কোনো ঘরে তল্লাশি চালানো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন সমর্থক এসে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। যার মধ্যে দক্ষিণ দিল্লি, নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লি অঞ্চলের গেস্ট হাউস এবং হোটেলও রয়েছে।” আর সেই কারণেই এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে অনেক ভিভিআইপিরা যেতে পারেন জন্যেই যে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে, সেই কথা জানিয়ে দিয়েছে দিল্লী পুলিশ। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করছেন, তখন সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্যই যে দিল্লি পুলিশ এত তৎপর, তা জানিয়ে দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যার মুখোশ খুলে দিলো দিল্লি পুলিশ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।