প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গতকাল যেভাবে বঙ্গভবনের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং যেভাবে তিনি দিল্লি পুলিশের মুখোমুখি হয়ে অনেক কথা বলেছিলেন, তাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, দিল্লি পুলিশ নাকি মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে ভয় পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আর যাই হোক, সেই দিল্লি পুলিশ যে সম্মান প্রদর্শন করতে জানে একজন প্রবীনা মহিলাকে এবং সেই কারণেই যে তারা সম্মান প্রদর্শন করে সেখান থেকে সরে এসেছেন, পাল্টা সেই বক্তব্য তুলে ধরেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎ করেই কেন গতকাল বঙ্গভবনের সামনে গিয়ে এত চিৎকার চেঁচামেচি করলেন? আর কেনই বা বঙ্গভবনের ভেতরে দিল্লি পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অনেক চর্চা চলছে। অনেকে বলছেন, এটাই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইউএসপি। তিনি তো এভাবেই বিরোধী নেত্রী হিসেবে বারবার নিজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে তবে যে বা যারা এই ধরনের কথা বলছেন, তারা যে একটু ভুল করছেন, তা পাল্টা বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার ধারণা যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারের নির্বাচনে কোনোভাবেই জিততে পারবেন না। আর জিততে পারবেন না বুঝেই তিনি ২০২১ এ যেমন নন্দীগ্রামে জেতার জন্য ভাল পায় ব্যান্ডেজ জড়িয়ে ছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই তিনি চাইছেন, যেভাবেই হোক, দিল্লি পুলিশ যদি তাকে হেনস্থা করে, তাহলে তিনি সেই সিমপ্যাথি নিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে বলে তিনি একটা নতুন নাটক এবং চিত্রনাট্য স্থাপন করবেন। তাই সকলেই তার এই ধরনের ড্রামাবাজি ধরে ফেলেছে বলেই পাল্টা খোঁচা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে খুব একটা হাওয়া ছিল না। গোটা রাজ্যে তিনি যেভাবেই হোক জয়লাভ করলেও, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। তবে জেতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কৌশল অবলম্বন করেছিলেন বলেই দাবি করে বিরোধীরা। এক্ষেত্রে নন্দীগ্রামে ভালো পায়ে তিনি ব্যান্ডেজ করে হুইল চেয়ার করে রাজ্য জুড়ে ভোটের প্রচার করে নিজের পক্ষে সমর্থন নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন। আর এবারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই রকম একটা চেষ্টা করছেন। তিনি চেষ্টা করছেন, যেভাবেই হোক, তাকে হেনস্থা করা হোক। আর তিনি সেই বিষয়টিকে নিয়ে নাটক করে আবার ২০২১ এর মত যেভাবে হুইলচেয়ারে ঘুরে ভোট পেয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই নতুন একটা চিত্রনাট্য করে মানুষের মন পাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে দিল্লি পুলিশ যে গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি, তারা যে কোনোভাবেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বেশিক্ষণ ড্রামা করার প্রশ্রয় দেয়নি, সেই বিষয়টি উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে মুখ্যমন্ত্রী যে ধরনের আচরণ করেছেন, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই ড্রামা বাজি মানুষ ধরে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ খুব ভালোমত জানে, তিনি ড্রামা করছেন। উনি চাইছেন, ২১ এর মত ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে হুইল চেয়ার করে ভোট নিতে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে খুব কাছ থেকে চেনেন। দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সবদিক থেকেই বুঝতে পারছেন যে, মানুষ এবার তার সঙ্গে নেই, তখন তিনি অন্য কায়দায় মানুষের মন পাওয়ার জন্য নিজে ইচ্ছাকৃতভাবেই হেনস্থা হওয়ার চেষ্টা করছেন। আর সেই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে তিনি ভোটে জিতে যাওয়ার একটা চিত্রনাট্য তৈরি করে নিয়েছেন বলেই দাবি রাজ্যের বিরোধী দলনেতার।