প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআরে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিরোধীরা পাল্টা দাবি করছে যে, এসআইআর সঠিকভাবে হলে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। কারণ এতদিন ভোটার তালিকায় জল মিশিয়ে অবৈধ ভোটারদের রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছে এই রাজ্যের শাসক দল। তাই এসআইআর প্রক্রিয়ার তারা বিরোধিতা করতে শুরু করেছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী যে বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক, সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচুর নাম বাদ যাওয়ার কারণে এখন যে তিনি রীতিমত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, তা আজ আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়ে গেল দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে। অন্তত তেমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা।

বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীরা দাবি করছে, এবার তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত। কারন সঠিকভাবে এসআইআর হলে তৃণমূল কোনোমতেই ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। কিছুদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের যে সমস্ত বিএলএ 2 রা রয়েছেন, তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছেন বলেই খবর পাওয়া গিয়েছিল। এমনকি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সভা থেকে দাবি করছেন যে, গতবার যেমন তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন, এবারও যদি সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে দাঁড়ান, তাহলে সেখানে তাকে পরাজিত করবেন। আর এর মধ্যেই আজ দিল্লিতে বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকে সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করলেন, তাতে দুইয়ে দুইয়ে চার করতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা‌। তারা বলছেন, তাহলে কি শুভেন্দু অধিকারীর কথাই সত্যি হতে চলেছে? সত্যিই কি নিজের সেফ সিট বলে পরিচিত ভবানীপুর নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে?

এদিন দিল্লিতে বঙ্গভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে এসআইআরের বিরুদ্ধে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় সোচ্চার হন তিনি। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভবানীপুরে ৪০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির বিধানসভা কেন্দ্রে কম নাম বাদ যাচ্ছে। কিন্তু তৃণমূলের বিধানসভা কেন্দ্রে ৮০ হাজার, ১ লক্ষের মত নাম বাদ দিতে চাইছে কমিশন।” আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা খোঁচা দিতে শুরু করেছে বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহল। তাদের বক্তব্য, যে সমস্ত জায়গায় বিজেপি জিতেছে, সেখানে ভুয়ো ভোটার নেই। আর তৃণমূল যে সমস্ত জায়গায় জিতেছে, সেখানে এই ভুয়ো ভোটারদের কাজে লাগিয়েই তারা বিপুল মার্জিনে জয়লাভ করেছে। আর এটা খুব ভালো মতই ধরতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই তালিকা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভা কেন্দ্রও বাদ নেই। সেই কারণেই অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার ফলে তিনি এখন রীতিমত আতঙ্কিত। তাই ভবানীপুরেও যে তিনি নিরাপদ নন, তা আজ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।