প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সকলেই মনে করেছিল যে, তৃণমূল যেভাবে তিনি জেলে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, তার পর হয়ত তিনি জেল থেকে ফিরে আসার পর তার সঙ্গে আর সেই ভাবে মাখামাখি করবে না। এক্ষেত্রে তৃণমূল হয়ত তার সঙ্গে দূরত্ব স্থাপন করবে। এমনকি জেল থেকে ফিরে আসার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে। কিন্তু সম্প্রতি যে খবর পাওয়া গেল, তারপর প্রশ্ন উঠছে যে, সত্যিই কি এই রাজ্যের শাসক দলের লজ্জা বলতে কিছু আছে? তারা কি এখনও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত মানুষকে রত্ন বলে মনে করছে? যেমন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডলদের তারা গুরুত্ব বাড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই কি এবার ধীরে ধীরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও আবার তার গুরুত্বে ফিরিয়ে দেওয়া হবে? এমনকি যে পার্থবাবু জেলে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়ে তৃণমূলের নেতারা গর্ববোধ করে বলেছিলেন যে, তারা কেউ দোষ করলে তাদের রেয়াত করে না, সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কি ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে আবার টিকিটও দেবে তৃণমূল কংগ্রেস? এই প্রশ্নগুলো তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। পাশাপাশি সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে যে খবর সামনে এসেছে, তার ফলে মনে করা হচ্ছে যে, তৃণমূল আবার তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। আর তার ফলেই এই পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইস্যুতে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ইতিমধ্যেই যে খবর পাওয়া গিয়েছে, তাতে বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে আবার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছেন এই পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন জেল খেটে আসার পরেও তাকে যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়েছে, তার ফলে রীতিমত শাসক দলকে চেপে ধরতে শুরু করেছে বিরোধীরা। যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আবাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত দুটি কমিটিতে রাখা হয়েছে। আর এর ফলেই বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন যে, রাজ্যের শাসক দলের লজ্জা বলতে কিছু নেই। তারা যারা চুরি করবে, যারা জেলে থেকে আবার ফিরে আসবে, তাদেরকেই তারা রত্ন মনে করবে। অন্তত পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে যেভাবে আবার নির্বাচনের আগে পদে বসানো হলো, তার মধ্যে দিয়ে সেটাই প্রমাণ হয় বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে শাসকের নির্লজ্জতা সামনে এনে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আসল বদল তৃণমূল কংগ্রেস করেনি, তার কারণ হচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তারা হয়ত ভোটেও লড়াবে। সেই চ্যালেঞ্জ মাননীয় অমিত শাহজী করে গেছেন, বেশ কিছু নাম ধরে যে, যদি এদেরকে টিকিট না দেন তাহলে বুঝবো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদের কাজকে সমর্থন করেননি। কেষ্ট মন্ডলের ক্ষেত্রে আপনারা দেখেছেন, তার পদোন্নতি হয়েছে, সিকিউরিটি বেড়েছে। অর্থাৎ এখানে যে এই ধরনের যত বেশি কাজ করবেন, তাকে সসম্মানে মর্যাদা দেওয়া হবে। পার্থ চ্যাটার্জি নির্বাচনে লড়লেও আমরা আশ্চর্য হবো না এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পদোন্নতি হলেও আমরা আশ্চর্য হবো না।”