প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এতদিন যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে জিতেছে, ২৬ এর নির্বাচনে আর সেই কৌশল প্রয়োগ তারা করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতিতে কাজ করছে, তাতে তৃণমূল খুব ভালোমতই বুঝতে পারছে যে, মানুষের সমর্থন তারা পাবে না। আর এতদিন অবৈধভাবে নির্বাচনে জিতে আসলেও, এবার কারচুপি করে বুথ দখল করে, আর ভোটে জেতার সম্ভব হবে না। আর সেই জন্যই কি এখন থেকেই হার নিশ্চিত বুঝেই প্রকাশ্য সভায় এইরকম মন্তব্য করতে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চন্দ্রনাথ সিনহাকে? তিনি প্রকাশ্য সভা থেকে যে মন্তব্য করলেন, তার ফলে সেই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। এমনকি গোটা বিষয় নিয়ে চর্চাও শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
কি ঘটনা ঘটেছে? এই রাজ্যের শাসক দলের বহু নেতা-মন্ত্রী এখন জেনে গিয়েছেন যে, এবার অনেক আসন রয়েছে, যেখানে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। মুখে তারা যতই জয়ের কথা বলুন না কেন, বাস্তব যে একেবারেই আলাদা, তা গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে বুঝতে পারছেন সেই সমস্ত নেতা মন্ত্রীরা। আর সেই রকমই হয়ত একজন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। বীরভূমকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলা হলেও, মন্ত্রী যে নিজের ওয়ার্ডেই জিততে পারবেন কিনা, তা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তাশীল, তা তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল। যেখানে তিনি নিজেই বলছেন যে, তাকে তার ওয়ার্ডে পরাজয় নিয়ে বারবার করে কথা শুনতে হয়। তাই এবার যদি তাকে হারাতেই হয়, তাহলে যেন বলে হারানো হয়। আর মন্ত্রীর এই কথা শুনে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, এবার কোনোমতেই জেতা সম্ভব হবে না। তাই আগে থেকেই এই ধরনের কথা বলতে শুরু করেছেন চন্দ্রনাথবাবু।
সূত্রের খবর, এদিন বোলপুরের একটি কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। আর সেখানেই তিনি বলেন, “কলকাতার বৈঠকে আমায় বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। আমি সব জায়গায় জিতি। কিন্তু নিজের ওয়ার্ডে হারি। কোর কমিটির বৈঠকেও কেষ্টদাকে এইসব নিয়ে ব্যঙ্গ শুনতে হয়। যদি আমায় বা আমার দলকে পছন্দ না হয়, তাহলে বলে হারান, ক্ষতি নেই। আমায় না বলে হারাবেন না। কিন্তু এবার জেতানোর চেষ্টা করুন। আর যদি মনে করেন, এবার হারাবো, তাহলে বলে দিন।”