প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এখন প্রধান মাথাব্যথার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এসআইআর। যেভাবেই হোক, এসআইআর প্রক্রিয়াকে বন্ধ করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। আর সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকায় যেভাবে অবৈধ ভোটারদের রেখে এতদিন নির্বাচনে পার হয়েছে তৃণমূল, এবার আর সেটা হবে না বুঝতে পেরেই তাদের এখন গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আর সেই কারণেই বিরোধীরা যখন একত্রিত স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসার জন্য, ঠিক তখনই তৃণমূল তাতে সই করতে রাজি নয়। তারা বরঞ্চ অন্য লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এখানেই জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাহলে কি ক্রমশ বিজেপি বিরোধী জোট থেকে ছিটকে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস?

আজ দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই বৈঠকেই তৃণমূলের যে গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছে, তার ফলে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, তৃণমূল কি তাহলে বিরোধীদের সঙ্গে একজোট হয়ে আগামী দিনে পথ চলতে পারবে? নাকি তারা এই বিরোধী জোট থেকে ছিটকে যাবে? কেন এই কথা বলা হচ্ছে? তার কারণ, বিরোধীরা আজকের এই বৈঠকে মূলত লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার জন্য আলোচনা শুরু করেছিল। আর সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের সেই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করার কথা বলা হয়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস তাতে সই করার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেনি। আর এখানেই বিভিন্ন রকম চর্চা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

কিন্তু স্পিকারের বিরুদ্ধে যখন বিজেপি বিরোধী দলগুলো অনাস্থা আনতে চাইছে, তখন তৃণমূল তাতে সই করতে চাইলো না কেন? তৃণমূলের দাবি এক্ষেত্রে অন্য। তারা চাইছে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনতে। কেননা বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস বুঝতে পারছে যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যে পদ্ধতি এগিয়ে যাচ্ছেন, যেভাবে তিনি ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা অবলম্বন করার কাজ করতে চাইছেন, তাতে তৃণমূল খুব একটা খুশি নয়। তারা চাইছে, অবৈধভাবে নির্বাচনে ২০২৪ এর ভোটার তালিকা রেখে বাংলায় আবার জিততে। কিন্তু সেই কৌশল তাদের প্রয়োগ করা অসম্ভব জেনেই তারা এখন অন্য কোনো দিকে মনোযোগ না দিয়ে বাংলা দখল করার জন্য দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতেই মূল টার্গেট রাখতে চাইছে। তবে এইসব করতে গিয়ে তৃণমূল বিজেপি বিরোধী বাকি দলগুলোর সঙ্গে সম্মতি প্রকাশ না করে যদি নিজেদের মতামত প্রয়োগ করতে শুরু করে, তাহলে তারা এই বিজেপি বিরোধী জোটের কাছেও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।