প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলায় বড় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা এক কথায় রাজ্যের বিরুদ্ধে গিয়েছে। রাজ্য বহু চেষ্টা করেও নিজেদের বিপর্যয় আটকাতে পারেনি। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্চ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দিতে হবে। আর বাকি ৭৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতের এই নির্দেশ পালন করার মতো কোনো প্রক্রিয়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে বিভিন্ন মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে যে, তাহলে কি রাজ্য আবার অন্য কোনো ফাঁক খুঁজতে চাইছে? যার মধ্যে দিয়ে তারা যাতে এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে না হয়, সেই চেষ্টা করছে? আর এই সমস্ত প্রশ্নের মাঝেই আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে যে মন্তব্য করে বসলেন, তার ফলে রীতিমত জল্পনা বাড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে।

ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে যে নির্দেশ সামনে এসেছে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলায়, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, রাজ্যের কাছে এখন পালানোর আর কোনো পথ নেই। যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীরা এতদিন এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতার জন্য লড়াই আন্দোলন করেছেন, তারাও রাস্তায় নেমে রাজ্যকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এবার রাজ্যকে তাদের নির্দেশ পালন করতেই হবে এবং এরপরেও যদি রাজ্য নির্দেশ পালন না করে আদালতের, তাহলে তারা চরম আন্দোলনের পথে নামবেন। কিন্তু তারপরেও এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পরেও তা পালন করার ক্ষেত্রে কি কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করছেন না? বরঞ্চ গোটা বিষয়টিকে যেভাবেই হোক এড়িয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন তিনি এবং তার সরকার? ইতিমধ্যেই আজ মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তারপরে এই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।

এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই তাকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। আর সুকৌশলে সেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, “আমি এটা নিয়ে কোনো উত্তর আপনাদের কাছে দেব না। যা আমি বিধানসভায় বা ওইদিন আপনারা প্রশ্ন করেছিলেন, দিয়ে দিয়েছি। বাদবাকি বিষয়টা বিচারাধীন। আমি বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্যে যাব না।” আর এখানেই বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন যে, মুখ্যমন্ত্রী কি এতটুকু জানেন না যে, গোটা বিষয়টা আর বিচারাধীন নেই! আদালত তো নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে, রায়দান করে দিয়েছে। তারপরেও গোটা বিষয়টা বিচারাধীন থাকে কি করে? এখন তো রাজ্যকে তাদের নির্দেশ পালন করতে হবে। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বিচারাধীন বলে গোটা বিষয়টিকে ক্রমাগত এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাতে আগামী দিনে এই রাজ্যের জন্য যে চরম দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে বিরোধীরা।