প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ২০২১ সালে ভোটে জেতার জন্য লক্ষীর ভান্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপর ক্ষমতায় এসে মা-বোনেদের হাজার টাকা করে দিতে শুরু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর কিছুদিন আগেই রাজ্য বাজেটে সেই প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হয়। এখন সকলের মধ্যে একটাই প্রশ্ন যে, এই টাকা কি তৃণমূলের পৈত্রিক সম্পত্তি? নাকি এটা সাধারণ মানুষের সবার টাকা? তৃণমূল তো এই টাকা নিজেদের ঘর থেকে এনে দিচ্ছে না! মানুষের টাকাই তো মানুষকে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে কেন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা বারবার করে বলবেন যে, তাদের ভোট না দিলে এই লক্ষীর ভান্ডারের টাকা পাওয়া যাবে না? এই ধরনের কথা বলে তো তারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, তৃণমূল করলেই মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবে, আর না করলে সে পাবে না। এই যেমন শওকত মোল্লা কিছুদিন আগে এক মন্তব্য করেছেন যে, ভোটে না জিতলে সেই সমস্ত অঞ্চলে তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডারে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেবেন‌। আজ আবার আরও এক গুণধর তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে যে মন্তব্য করলেন, তার ফলে তার রুচিহীনতা প্রকাশ পেল বলেই মনে করছে বিরোধীরা।

বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষীর ভান্ডারের আরও ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। ভোটে জেতার জন্যই যে এই কাজ করা হয়েছে, তা সকলেই খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ভাতা দিয়েই কি সবার সংসার চলবে? নাকি ছেলেমেয়েদের ঘরে ঘরে চাকরি দিতে হবে! এই সহজ সরল সত্যটা কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন নাঋ তা নিয়ে তো বিরোধীরা প্রশ্ন তুলবেন, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। আর বিরোধীদের মধ্যে থেকেই যারা এই বিষয়ে সোচ্চার হচ্ছেন, এবার তাদেরকেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিতে কি আপনাদের লজ্জা করে না? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন কোচবিহারে তৃণমূল সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তিনি বললেন, “যারা এই লক্ষ্মীর ভান্ডারের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলছেন, সেই সব বিজেপির মহিলারা হাত পেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিক্ষা নিচ্ছেন।” আর তার এই মন্তব্য নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

বিজেপির বক্তব্য, সরকার এবং দলকে আলাদা করতে পারেনি তৃণমূল। আর সেই কারণেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা সাধারণ মানুষকে দিয়ে তারা ভাবছেন, তারা তাদের ঘর থেকে টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু এই টাকা মানুষের টাকা। মানুষের টাকাই আবার মানুষকে দিয়ে তৃণমূল ভয় দেখাচ্ছে যে, লক্ষীর ভান্ডার নিতে গেলে নাকি সবাইকে তৃণমূল করতে হবে। কিন্তু কেউ এই মাথা নত করে তৃণমূলের শাসানি বরদাস্ত করবে না। আগামী দিনে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে এই লক্ষীর ভান্ডারে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি সকলেই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ভোটবাক্সে ভোট দিয়ে এই দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে বলেই দাবি বিজেপির।