প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর কিভাবে রাজ্যবাসী সর্বনাশের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তা খুব ভালো মতই বুঝতে পারছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। তাই বাংলাকে রক্ষা করার জন্য, বাংলার আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করার জন্য এবার বাংলা দখলের ক্ষেত্রে তারা পুরোদস্তুর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বাইরের রাজ্যের হেভিওয়েট নেতাদের বাংলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজে লাগিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। যার মধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। আজ তিনি এবং শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন। আর সেখানেই এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা যেভাবে প্রতিনিয়ত মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন, সেই সুরেই আক্রমণ শানালেন ভূপেন্দ্র যাদব। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সবদিক থেকেই ব্যতিক্রম। এমনকি তিনি নিজের সরকারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও আদালতে যেতে দু’বার ভাবছেন না।

সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে নিজেদের ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য নেতৃত্ব সকলেই চাইছেন, এবার বাংলায় পরিবর্তন ঘটাতে। এক্ষেত্রে তারা কোনোরকম খামতি রাখতে চাইছে না। আর এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে যে মামলার রায় সামনে এসেছে, তা রাজ্যের বিরুদ্ধে গিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আবার গোটা বিষয়টিকে বিচারাধীন বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু যে মামলার রায়দান হয়ে গিয়েছে, সেই মামলা কি করে বিচারাধীন হতে পারে? তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর এই পরিস্থিতিতে এবার সেই বকেয়া মহার্ঘভাতা মামলার রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।

এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। যেখানে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোর্টে যাচ্ছেন। এসআইআরের জন্য কোনো লোক মারা যাননি। তারা এই ডিএর হতাশার জন্য মারা গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তো এসআইআরের জন্য সুপ্রিম কোর্টে গেলেন। কিন্তু ডিএর জন্যও সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারতেন।” অর্থাৎ এই রাজ্যের বিজেপি নেতারা যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন, সেই একই সুরে সুর বেঁধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন। যার ফলে রীতিমত অস্বস্তি বাড়বে এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।