প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত নেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সার্ভেতেই উঠে আসছে যে, এবার বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। ২০২১ সালেও এরকম একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে এতটা প্রকট ছিল না। কিন্তু এবার যেভাবে দুর্নীতি থেকে শুরু করে ভাতা, ভর্তুকি দিয়ে রাজ্যকে পরিচালনা করার চেষ্টা করছে তৃণমূল সরকার, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাই বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি নেতারাও সর্বস্ব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছেন, রাজ্যের পরিবর্তনের জন্য। ভিন রাজ্য থেকে অনেক বিজেপি নেতাদের পশ্চিমবঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক হিসেবে এই রাজ্যের দায়িত্বে রয়েছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। এক সময় বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তার নেতৃত্বে ত্রিপুরায় সরকার চলেছিল। কিছুদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন যে, তার কুন্ডলীতে হার বলে কিছু নেই। তাই এবার বাংলাতেও পরিবর্তন হবে। আর এবার সেই বিপ্লব দেব বাংলায় পরিবর্তনের ব্যাপারে এতটাই কনফিডেন্ট হয়ে পড়েছেন যে, তিনি বুঝিয়ে দিলেন, যা খুশি তাই হয়ে যাক, পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপির সরকার হবেই।

২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সকলেই চালচিত্র দেখে বুঝতে পারছেন যে, এবার পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বিজেপির অনেক কর্মীদের মধ্যেও একটা আশঙ্কা রয়েছে যে, ২১ সালেও এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ২১ এও বিজেপি ক্ষমতায় চলে আসতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই গণনা কেন্দ্রে কারচুপি করে, ভয় দেখিয়ে তারা লুটপাট চালিয়েছিলো। যার ফলে তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তাই এবারও শেষ পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে ওই গণনা কেন্দ্রে চুরিটা আটকাতে সক্ষম হবে তো দল? আর সেটা যদি না হয়, তাহলে আবারও এত বড় সুযোগের সামনে দাঁড়িয়েও তারা ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। তবে কর্মীদের মধ্যে সেই আশঙ্কা যখন চলছে, তখন যাবতীয় সংশয় দূর করে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেব।

এদিন বরানগরে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন বিজেপি সাংসদ বিপ্লব দেব। আর সেখানেই তিনি বলেন, “রক্তগঙ্গা বয়ে যাক, আর মহাসাগর বয়ে যাক। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে। মানুষ রাস্তায় নামবে। ওনাকে শুধু বিদায় দেওয়া নয়, ওনার পার্টিটাই থাকবে না।” আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপ্লব দেবের মত মানুষ একসময় ত্রিপুরায় লড়াই করে বাম শাসনকে সরাতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাই তিনি রাজনীতিটা খুব ভালোই বোঝেন। পশ্চিমবঙ্গের সহ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি জেলায় জেলায় ঘুরছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। আর তা বুঝেই ভোটের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা নয়। ভোটের আগেই এতটাই কনফিডেন্ট হয়ে পড়লেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, যা খুশি তাই হয়ে যাক। বাংলায় এবার হচ্ছে বিজেপির সরকার।