প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআর প্রক্রিয়া যেভাবে চলছে পশ্চিমবঙ্গে, তাতে অনেকে খুশি। আবার অনেকে হতাশ। অনেকে বলছেন যে, এবারেও এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘেঁটে দেবে তৃণমূল কংগ্রেস। তলায় তলায় তারা অবৈধ ভোটারদের নাম রেখে দেওয়ার একটা মরিয়া চেষ্টা করছে। স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়ে তারা অনেক অবৈধ ভোটারের নাম রেখে দিচ্ছে। কিন্তু সেই সুযোগ যে থাকবে না, দিনের শেষে যে সমস্ত অবৈধ এবং বিদেশী ভোটারের নাম বাদ দিতেই হবে, তা একেবারে শেষ মুহূর্তে আজ ভিডিও কনফারেন্সের বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্কুটিনির মেয়াদ অনেকটাই বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল পর্যন্ত এই শুনানি চলবে। তারপর আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। তবে বিরোধীরাও আশঙ্কা করছেন যে, অনেক জায়গাতেই অবৈধ ভোটারদের নাম রেখে দেওয়া হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস এই অবৈধ ভোটারদের কাজে লাগিয়েই এবারের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মরিয়া চেষ্টা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত যতই প্রশাসনকে দিয়ে তৃণমূল এই কাজ করার চেষ্টা করুক না কেন, দেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে যে সমস্ত খবর রয়েছে, তা আজ একটি কড়া নির্দেশিকার মধ্যে দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন জ্ঞানেশ কুমার।

সূত্রের খবর, আজ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের ভিডিও কনফারেন্স একটি বৈঠক করেন। যেখানে রাজ্যের সিইও সহ প্রত্যেকটি জেলার জেলাশাসক এবং রোল অবজার্ভাররা উপস্থিত ছিলেন। আর সেই বৈঠকেই একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। বৈঠকে প্রত্যেকটি জেলাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনোভাবেই বিদেশি ভোটারের নাম যেন ভোটার তালিকায় না থাকে। শুধু তাই নয়, কোনো বৈধ ভোটারের নামও যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেই দিকেও নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। অর্থাৎ কোনোভাবেই ভোটার তালিকায় অস্বচ্ছতা যেন না থাকে এবং কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেই বিষয়টিতে জোর দেওয়ার চেষ্টা করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই যারা অবৈধ ভোটারদের নিয়ে মাতামাতি করে ক্ষমতা দখল করার নেশায় মেতে উঠেছিলেন, যারা ভেবেছিলেন, বিভিন্ন শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বেশকিছু জায়গায় অবৈধ ভোটারদের নাম রেখে দেবেন, শেষ মুহূর্তে কমিশন যে কড়া নির্দেশিকা দিয়ে দিলো, তাতে প্রশাসনের মধ্যেও যারা এই কাজ করার সুযোগ খুঁজছিলেন, তারাও এখন যথেষ্ট ভয় থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত এই অবৈধ ভোটারদের নাম রেখে দেওয়ার যে কারসাজি, সেই সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।