প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
একেই তো দুর্নীতি, অত্যাচার, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। আর তার মধ্যে বিজেপির যতটুকু বা সংশয় ছিলো, এই বাংলায় জেতার ব্যাপারে, এবার তৃণমূলই সেই সংশয় দূর করে দিলো। কেননা এই রাজ্যের বুকে তৃণমূল কংগ্রেস এখন ঢালাও করে প্রত্যেকটি বিধানসভায় ওই উন্নয়নের পাঁচালী নিয়ে প্রচার করছে। আর সেই কর্মসূচি থেকে নিজেদের উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে তৃণমূলেরই একটা অংশ যেভাবে বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে স্লোগান দিয়ে বসলেন, তাতে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছিলো, সত্যিই এটা তারা ঠিক শুনছেন তো? নাকি ভুল করে এই কথা বলে ফেললেন তৃণমূলের সেই সমস্ত কর্মীরা? কিন্তু না, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলের এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, বিধায়কের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচির মঞ্চ থেকেই এখন প্রকাশ্যেই সোচ্চার হতে শুরু করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা। আর এটাই যে বিজেপিকে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে বাড়তি মাইলেজ এনে দেবে, সেই ব্যাপারে অন্তত নিশ্চিত বিরোধীরা।

তৃণমূল এখন খুব ভালো মতই বুঝে গিয়েছে যে, এবার আর তারা রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। তাদের এবার বিদায়ের সময় চলে এসেছে। যেভাবে বিজেপি ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে, তা তৃণমূলের কাছে যথেষ্ট আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কি নিজেদের আতঙ্ক নিজেরাই ডেকে আনছে? বিজেপিকে আটকানো যাদের প্রধান কাজ বলে দাবি করছেন নেতারা, সেইখানে তৃণমূলের এত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থেকে প্রকাশ্যে কর্মীরা বিধায়কের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বসছেন। এমনকি তারা প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই জনতার সামনে বলতে শুরু করেছেন, বিধায়ক বীনা মন্ডল হটাও, স্বরূপনগর বাঁচাও। আর এখানেই প্রশ্ন যে, যাদের মুখে বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও স্লোগান শোনা যায়, তারা হঠাৎ করে নিজেদের দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে এমন স্লোগান দিচ্ছেন? যা সত্যি হাস্যকর বলেই খোঁচা দিচ্ছে বিরোধীরা।

সূত্রের খবর, এদিন তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী নামক কর্মসূচি ছিলো স্বরূপনগর বিধানসভায়। আর সেখানেই সেই কর্মসূচি চলার মাঝেই বেশ কিছু তৃণমূল কর্মীরা প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বিধায়কের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। মাইক হাতে নিয়ে তারা মঞ্চে বলতে শুরু করেন, “বিধায়ক বীনা মন্ডল হটাও, স্বরূপনগর বাঁচাও।” আর এই দৃশ্য দেখে সকলের মধ্যেই একটা প্রশ্ন ছিল যে, সত্যিই এটা তৃণমূলের সভা হচ্ছে তো? বিজেপির দাবি, শুধু স্বরূপনগর নয়, রাজ্যের প্রত্যেকটি জায়গায় তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। আর এই জন্যেই দিনের শেষে তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ কর্মীরাই পছন্দের প্রার্থী না হওয়ায় তৃণমূলের তল কাটবেন এবং বিজেপি জয়লাভ করবে বলেই আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবিরের নেতারা।