প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যেই যে এবার প্রধান লড়াই হবে, তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। তবে তার মাঝেও হুমায়ুন কবীর যেভাবে নতুন দল গঠন করেছেন, তাতে তিনি প্রতিনিয়ত দাবি করছেন যে, তার দল একটা বড় মাপের সংখ্যা পাবে এবং সেখানে তারা নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবেন। না তৃণমূল, না বিজেপি, কাউকেই তারা ক্ষমতায় আসতে দেবেন না। আর এই পরিস্থিতিতে সেই হুমায়ুন কবীরের নতুন গঠন করা দলের সঙ্গে বাম এবং আইএসএফের জোট হবে কিনা, তা নিয়ে এতদিন একটা জল্পনা চলছিলো। তবে এবার পরিষ্কার ভাষায় হুমায়ুনবাবু নিজেই জানিয়ে দিলেন যে, এমন কোনো জোট তাদের হচ্ছে না। যার ফলে এবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্মুখী লড়াই হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীর যে দল গঠন করেছেন, তার ভবিষ্যৎ রণীনীতির দিকে অনেকেই তাকিয়ে ছিলেন। সকলেরই একটা ধারণা ছিল যে, তৃণমূল যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভর করে বারবার ক্ষমতায় আসে, এবার সেই সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারে হুমায়ুন কবীরের মত দল। এক্ষেত্রে তিনি বাম এবং আইএসএফের সঙ্গে জোট করলে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যাবে বলেও মনে করা হচ্ছিল। কেননা তাহলে এই সংখ্যালঘু ভোট পুরোটাই তাদের দিকে চলে যেতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে হুমায়ুন কবীর নিজেই যা ঘোষণা করে দিলেন, তাতেই একটা জিনিস বোঝা যাচ্ছে যে, এবার বঙ্গ রাজনীতিতে বিধানসভা নির্বাচনে একটা বড় টুইস্ট হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত কোন দল ক্ষমতায় আসবে, কোন পথে গড়াবে রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ, তা আগেভাগেই কেউ নির্ধারণ করতে পারবেন না।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। আর সেখানেই তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এবার বামফ্রন্টের সঙ্গে বা সিপিএমের সঙ্গে তাদের কোনো জোট হচ্ছে না। এমনকি আইএসএফের সঙ্গেও তারা কোনো জোটের রাস্তায় যাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে তারা যে পরিমাণ আসন দাবি করেছেন, তা নিয়ে তাদের সঙ্গে বনিবনা হয়নি জন্যেই যে তারা এই জোট করছেন না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন হুমায়ুনবাবু। শুধু তাই নয়, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম এমনিতেই রাজ্যের শূন্য। তবে এবার তাদের মহাশূন্যে পাঠানো হবে বলেও হুংকার দিয়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই মিম সহ আরও একাধিক দলের সঙ্গে জোট করেই যে এবার বিধানসভা ভোটে আলাদাভাবে লড়াই করছে হুমায়ুনবাবুর দল, তা দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে গেল। তবে দিনের শেষে যে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে এত টানাটানি চলছে, সেই সংখ্যালঘুদের ব্যাপক সমর্থন কাদের দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজনৈতিক মহলের।