প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সময় চাকা ঘোরে, কিন্তু দুর্নীতির অভিশাপ কি পিছু ছাড়ে? ২০২২ সালের সেই জুলাই মাসের স্মৃতি ফের উসকে দিয়ে শনিবার সাতসকালে নাকতলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের শব্দে যখন থমথমে গোটা এলাকা, তখন রাজ্যবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন— তবে কি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ডায়েরিতে আরও কোনো বিস্ফোরক অধ্যায় বাকি রয়ে গিয়েছে? কোটি কোটি টাকার সেই ‘পাহাড়’ কি আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে প্রাক্তন মন্ত্রীকে?
আজ যখন শহরবাসী সবে আড়মোড়া ভাঙছে, ঠিক তখনই সিআরপিএফ-এর বিশাল কনভয় পৌঁছে যায় নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মুহূর্তে গোটা এলাকা কর্ডন করে ফেলেন। সূত্রের খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নতুন এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। তল্লাশির সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায় বাড়ির ভেতরেই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় বাড়ির প্রতিটি কোণ তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইস থেকে শুরু করে আলমারির গোপন নথি— কিছুই বাদ যাচ্ছে না গোয়েন্দাদের তীক্ষ্ণ নজর থেকে।
২০২২ সালের ২৩ জুলাই এই বাড়ি থেকেই টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার হয়েছিলেন তৎকালীন দাপুটে মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটি নগদ টাকা এবং কয়েক কোটি টাকার সোনার গয়না। সেই দৃশ্য আজও বাংলার মানুষের মনে টাটকা। প্রায় তিন বছর জেল এবং হাসপাতালে কাটানোর পর গত বছর নভেম্বরেই শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জামিন মানেই যে মুক্তি নয়, তা আজ ইডির এই ঝটিকা অভিযানে স্পষ্ট হয়ে গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির শিকড় এতটাই গভীরে যে একবার টান দিলে একের পর এক কঙ্কাল বেরিয়ে আসছে।
সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একাধিকবার সিবিআই ও ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি আবেদন করেছিলেন যে, প্রয়োজনে গোয়েন্দারা তাঁর বাড়িতে এসে বা ভিডিও কলের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সম্ভবত সেই পথেই হেঁটেছে, তবে তা নিছক জিজ্ঞাসাবাদ নয়, বরং একপ্রকার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতির সংগৃহীত টাকা কোথায় পাচার করা হয়েছে এবং কারা এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছে, সেই তথ্য আজও অধরা। জামিনে থাকার সময় তিনি কোনো তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগে হাই-প্রোফাইল এই তল্লাশি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মতে, “পাপ ছাড়বে না বাপকেও! যারা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্ন বিক্রি করে অট্টালিকা বানিয়েছে, তাদের আজ হোক বা কাল হিসেব দিতেই হবে। ইডি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং আইন মেনেই নিজের কাজ করছে।” অন্যদিকে, শাসক শিবিরের ওপর চাপ বাড়িয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, এই দুর্নীতির জাল আর কার কার ঘর পর্যন্ত বিস্তৃত?
নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে এখন উৎসুক মানুষের ভিড়। সিআরপিএফ-এর কড়া প্রহরা এবং ইডি আধিকারিকদের এই তৎপরতা কি আবারও কোনো ‘টাকার পাহাড়’-এর সন্ধান দেবে? নাকি আজই চূড়ান্ত কোনো নাটকীয় মোড় নেবে এই তদন্ত? নিয়োগ দুর্নীতির এই দীর্ঘ লড়াইয়ে মুহূর্তের আপডেট পেতে নজর রাখুন আমাদের ডিজিটাল পোর্টালে।