প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের রাজধানীর ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল জন্তর মন্তরকে (Jantar Mantar) ধর্ণা মঞ্চের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তির পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা তথা যুব আন্দোলনের প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র ডাকা আন্দোলনের জেরেই সরকার ভয় পেয়ে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করে মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।

দিল্লি পুলিশ এক নির্দেশিকা জারি করে জন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লির রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে প্রতিবাদের বিকল্প স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ ডিপকে সরাসরি বলেন: “নরেন্দ্র মোদীর আসল সমস্যা জন্তর মন্তর নামক ভৌগোলিক জায়গাটিকে নিয়ে নয়, ওনার আসল ভয় বা সমস্যা হলো সাধারণ মানুষের এই জোরালো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী যদি ভেবে থাকেন এই জায়গার তকমা কেড়ে নিলেই দেশে আন্দোলন বা ক্ষোভপ্রকাশ বন্ধ হয়ে যাবে, তবে তিনি মস্ত বড় ভুল করছেন। আপনি সাধারণ মানুষের প্রতিরোধকে এভাবে আইন দিয়ে মুছে দিতে পারবেন না। এবার ভারতের প্রতিটি প্রান্তে এমন হাজারো জন্তর মন্তর গড়ে উঠবে।”

উল্লেখ্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলন ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরে দিল্লির একাধিক রাস্তায় চেকপোস্ট বসানো, সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকালেও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিন্ক্য শিন্দেসহ একাধিক কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই খবর শেয়ার করে দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পুলিশি দমনপীড়ন চালিয়ে বা আটক করার ভয় দেখিয়ে এই যুব আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো রক্ষার এই লড়াই জারি থাকবে।