প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাটি এবার সম্পূর্ণ এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল। পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং তাদের দেওয়া থিওরি নিয়ে সোজাসুজি তোপ দাগলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
তদন্তকারীদের দাবি ছিল, ক্রাইম সিন রি-অ্যাকশনের সময় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল আচমকাই এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থেই পুলিশকে পাল্টা গুলি চালাতে হয়। কিন্তু পুলিশের এই তত্ত্বকে পুরোপুরি সাজানো চিত্রনাট্য এবং অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অধীর চৌধুরী।
অধীরবাবুর প্রশ্ন, যে অপরাধী গ্রামবাসীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতো নাবালিকার দেহ খোঁজার ভান করছিল, সে পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যে থেকে কীভাবে এত সহজে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিল? একজন সাধারণ মাদকাসক্ত ভ্যানচালকের সামনে যদি খোদ পুলিশ বাহিনীই নিজেদের অস্ত্র সামলাতে না পারে, তবে সেই বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। একে তিনি পুলিশের চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
পুলিশের এই অসহায়তার ছবি তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, আজ যদি কোনও বড় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন এ রাজ্যে থাবা বসায়, তবে এই পুলিশ কীভাবে সাধারণ নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে?
তাঁর স্পষ্ট তোপ, গত ১৫ বছরে এই রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এনকাউন্টারের মতো কাল্পনিক গল্প তৈরি করার চেয়ে পুলিশকে আরও শক্তিশালী করা উচিত ছিল সরকারের।বারুইপুরের এই নৃশংস কাণ্ডকে দেশের বুকে এক বড় লজ্জা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই মৃত্যুর ঘটনাটি শুধুই একটি এনকাউন্টার নাকি এর আড়ালে অন্য কোনও সত্য ঢাকা পড়ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।