প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আজ দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি বিজেপির কথামত কাজ করছে। এমনকি তাদেরকে অসম্মান করা হয়েছে। তাই তারা সেই বৈঠক থেকে বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন। আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সকলের কাছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের কাছে গিয়ে ভেবেছিলেন যে, বিভিন্ন বায়নাক্কা দেখিয়ে তার দাবি আদায় করে ফেলবেন, কিন্তু সেটা হয়নি। আর তাতেই তিনি আরও অগ্নিশর্মা হয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে তাই বলতে শুরু করেছেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করছেন, তখন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে নিজেদের বিবৃতি দিলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যেখানে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সমস্ত বক্তব্যের উত্তর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি এসআইআরের যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে যদি কেউ আইন হতে তুলে নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না, সেই বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

প্রসঙ্গত, এদিন নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠকের পরেই বাইরে বেরিয়ে এসে কমিশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তিনি। এমনকি তাদের সঙ্গে অসম্মানজনক ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করতেও দেখা যায় তাকে। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখেই সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে মোটেই সন্তুষ্ট নন। বরঞ্চ তিনি যে সমস্ত দাবিদাওয়া নিয়ে গিয়েছিলেন, তার কোনোটাতেই কমিশন মান্যতা দেননি জন্যই তিনি এত চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করছেন। তবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কি জানানো হয়, তার দিকে সকলের নজর ছিলো। অবশেষে কমিশন যে বিবৃতি জারি করলো, তাতে কিন্তু তারা যে এবার আইন হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া বার্তা দিলো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, এদিন কমিশনের পক্ষ থেকে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। যেখানে কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে যে সমস্ত এসআইআর সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়েছে, তার সবটাই উত্তর দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন এবং বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন, তা নিয়েও তাদের বার্তা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছেন, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনো আধিকারিকের ওপর যদি কোনো চাপ বা তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করা হয়, তাহলে যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সেই কথাও উল্লেখ করেছে কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি মানা তো দূরের কথা, উল্টে আইন হাতে তুলে নিলে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে চাইলে যে কাউকে ছাড়া হবে না, সেই বার্তা দিয়ে তৃণমূলের চাপ আরও দ্বিগুণভাবে বাড়িয়ে দিলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।