প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত এবং তার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় আজই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান স্বাভাবিক রাখতে রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। তবে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, তালিকায় নেই আরও চারটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কেন নেই পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্য?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই বৈঠক থেকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাদ পড়েছেন তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম এবং পদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীরা। রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও, এর পেছনে কাজ করছে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই পাঁচটি রাজ্যে বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct – MCC) বলবৎ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, আচরণবিধি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার বা প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো নীতি-নির্ধারণী বা বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক করতে পারেন না যেখানে নির্বাচনী রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা সরাসরি অংশ নেন। এতে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা থাকে। এই আইনি জটিলতা এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি লঙ্ঘন এড়াতেই কেন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ নির্বাচনী রাজ্যকে এই বৈঠকের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীদের ডাকা না হলেও, এই রাজ্যগুলোর প্রশাসনিক প্রস্তুতি যাতে থমকে না থাকে, তার জন্য বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে কেন্দ্র। ক্যাবিনেট সচিবালয় (Cabinet Secretariat) এই পাঁচটি রাজ্যের মুখ্য সচিবদের (Chief Secretaries) সঙ্গে আলাদাভাবে সমন্বয় করবে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের নিয়মও লঙ্ঘিত হবে না এবং আন্তর্জাতিক সংকটের মোকাবিলায় রাজ্যগুলোর প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কেন্দ্র ওয়াকিবহাল থাকতে পারবে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম হু হু করে বাড়ছে। এর প্রভাব যাতে ভারতের পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি (LPG) সরবরাহে না পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপে, তা নিয়ে রাজ্যগুলোর সঙ্গে রণকৌশল সাজাবেন প্রধানমন্ত্রী। আমদানিকৃত সার এবং অন্যান্য কাঁচামালের জোগান যাতে যুদ্ধের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যগুলোকে আগাম সতর্ক করা হতে পারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে কয়েক লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন পড়লে তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার (Evacuation Plan) প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান সংকটে যাতে দেশের গরিব মানুষ খাদ্য সংকটে না পড়েন, তার জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘টিম ইন্ডিয়া’ স্পিরিট বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে চাইছেন। যদিও আইনি কারণে পশ্চিমবঙ্গকে সরাসরি এই বৈঠকে দেখা যাচ্ছে না, তবে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই সংকটকালে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতিকে কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার।