প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মোড়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে অপ্রতিভম ক্ষমতার দাপট সংসদ দেখেছে, তা আজ এক বড় ধাক্কার মুখে পড়ল। দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনামলে এই প্রথম কোনো বিল পাস করাতে ব্যর্থ হলো নরেন্দ্র মোদি সরকার। লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল বহুচর্চিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন)। এই অভাবনীয় পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশ এখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায়—কী বলতে চলেছেন মোদি?
শুক্রবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিলটি পাসের জন্য পেশ করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য সংসদের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৫২টি ভোট) প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভোটাভুটির ফলাফল আসতেই দেখা যায়, বিলের পক্ষে পড়েছে মাত্র ২৯৮টি ভোট। অন্যদিকে, বিরোধীরা একজোট হয়ে বিলের বিপক্ষে ২৩০টি ভোট প্রদান করে। প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার থেকে ৫৪টি ভোট কম পাওয়ায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম মোদি সরকারের কোনো মেগা বিল লোকসভায় পরাজিত হলো।
কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), ডিএমকে (DMK) এবং সমাজবাদী পার্টির মত হেভিওয়েট বিরোধী দলগুলো এই বিলের বিরুদ্ধে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিরোধীদের মূল আপত্তি ছিল বিলের সাথে যুক্ত ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া নিয়ে। তাদের দাবি, এর ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর লোকসভা আসন ও রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে। বিরোধীদের এই একজোট হওয়া এবং ভোটাভুটিতে সরকারকে হারিয়ে দেওয়াকে বর্তমান রাজনীতির বড় টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
এই হারের পর জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি এই ঘটনাকে ‘নারীবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, এই বিল বাতিল হওয়ায় সরকার আপাতত ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিলটিও স্থগিত করার পথে হাঁটছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই হারের জন্য বিরোধীদের কাঠগড়ায় তুলবেন এবং নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কোনো বড়সড় বিকল্প পথের হদিশ দিতে পারেন।
সংসদে পরাজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়া বা জনসভায় প্রতিক্রিয়া দেন। কিন্তু সরাসরি ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তিনি কি কোনো কড়া আইনি পদক্ষেপের কথা বলবেন? নাকি নতুন কোনো সামাজিক আন্দোলনের ডাক দেবেন? উত্তর মিলবে আজ রাতেই।