প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভীষণ রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ। তিনি বিরোধী রাজনীতি করে এসেছেন দীর্ঘদিন। কাজেই তিনি জানেন, ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার আগে ঠিক কি কি হতে পারে। হয়ত তার সঙ্গে সেটাই হচ্ছে। আর সেই কারণেই পরাজয়ের আতঙ্ক গ্রাস করেছে তাকে। আর একবার ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তার দলের অস্তিত্ব যে খুঁজে পাওয়া যাবে না, এটাও তিনি খুব ভালো মত জানেন। তাই ক্ষমতায় টিকে থাকার সব চেষ্টা অবলম্বন করছেন তিনি। কিন্তু কোনোভাবেই যখন কিছু হচ্ছে না, কোনোভাবেই যখন এসআইআর আটকানো যাচ্ছে না, আর কোনোভাবেই যখন অবৈধ ভোটারদের রাখা যাচ্ছে না ভোটার তালিকায়, তখন পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি যা ইচ্ছে তাই বলতে শুরু করেছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্নটা উঠছে এই কারণে, আজ নবান্ন থেকে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন তিনি। আর সেখানে তিনি যে সমস্ত কথা বলেছেন, যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্ন একটাই যে, এই একজন মুখ্যমন্ত্রীর কি করে এই ধরনের শব্দ প্রয়োগ হতে পারে? কি সব বলে যাচ্ছেন তিনি?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা যারা কাছ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেছেন, তারা বলছেন যে, যতই কঠিন সমস্যা আসুক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এইরকম কোনোদিনও দেখা যায়নি। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, তার রাজনৈতিক আক্রমণ, তার কথাবার্তাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি অত্যন্ত চাপে রয়েছেন। এমনকি পরাজয়ের আতঙ্কে তিনি রীতিমত দিশেহারা। মুখে হয়ত তিনি বলছেন যে, তিনি এবারও ক্ষমতায় আসবেন। কিন্তু তিনিই আসল সত্যটা জানেন। আর সেই সত্যটা বুঝতে পারছেন জন্যই ঠিক থাকতে পারছেন না এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই কখনও কখনও এমন কিছু মন্তব্য করে বসছেন তিনি, যা তার বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আসলে তিনি মন থেকে সেই সমস্ত মন্তব্য করতে চাইছেন না। কিন্তু হারের আতঙ্ক এতটাই গ্রাস করেছে যে, দিকভ্রান্ত হয়ে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে আবারও এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যের আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনের সাসপেন্ড করার বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হন তিনি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী এটাও বলেন যে, ২৬ সালের পর নাকি কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে না, ইত্যাদি অনেক কথা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনাদের ইতিহাস, ভূগোল, পলিটিক্যাল সায়েন্স সবকিছু আছে। অনেক কীর্তি কেলেঙ্কারির নায়ক নায়িকাদের বলব, জনগণের ওপর প্রতিশোধ নেবেন না। যদি নিতে হয়, আমার ওপর প্রতিশোধ নিন। আপনারা কেউ যদি 420 ভোল্টের হন, তাহলে আমি 440 ভোল্ট।” বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাঝেমধ্যেই যে সমস্ত মন্তব্য করে থাকেন, তা বাংলার রুচি এবং সংস্কৃতিকে অনেকটাই নিচে নামিয়ে দিয়েছে। আজ মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য বাংলার মান, সম্মান ধুলুণ্ঠিত হচ্ছে। তবে আবারও তিনি এই ধরনের মন্তব্য করে বুঝিয়ে দিলেন যে, তৃণমূল সরকারের বিসর্জন এবার অনিবার্য। যতই তিনি পাঙ্গা নেওয়ার চেষ্টা করুন, সাধারণ মানুষ এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার জন্য তৈরি বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ মহলের।